আজকাল ওয়েবডেস্ক: শরিকি জমির মালিকানা নিয়ে বিবাদ এবং তাকে কেন্দ্র করে শনিবার ইদের সকালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত হাটপাড়া এলাকা।
দুষ্কৃতীদের দাপাদাপি থামানোর জন্য শেষ পর্যন্ত কান্দি থানার পুলিশকে ওই এলাকায় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতে হয়। কান্দি থানার আইসি-সহ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ছ'জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারলেও এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে ইদের নামাজ পড়ার পর হাটপাড়ায় এলাকার বাসিন্দা জনৈক আজান শেখ নিজের তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে তাঁরই এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় তৌহিদ শেখের বাড়িতে এসে হাজির হয় এবং একটি জমির মালিকানাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিবাদ বেঁধে যায়।
সূত্রের খবর, সেই সময় আজান শেখ একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র বার করে ভয় দেখিয়ে তৌহিদের পরিবারের সদস্যদের মারধর করতে শুরু করে।
এই সময় ঘটনাস্থলে আজান শেখের তিন ছেলে এবং তাঁর কয়েকজন আত্মীয় বন্দুক, শাবল এবং অন্য ধারাল অস্ত্র নিয়ে হাজির হয়ে যায় । অভিযোগ, তারা সকলে মিলে তৌহিদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাপক মারধর করে।
তৌহিদের পরিবারের সদস্যদের উপর যখন হামলা চলছিল সেই সময় কয়েকজন আজান শেখকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র-সহ ধরে ফেলে। এই সময় তার বাকি সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে কান্দি থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছালে তৌহিদের পরিবারের সদস্যরা আজানের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রটি পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার ঘটনায় আমিরুল শেখ, রবিউল শেখ, আসিফ শেখ ,বানার শেখ, তৌহিদ শেখ এবং সুকেরা বিবি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রথমে কান্দির গোকর্ণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা আহতদের বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন।
আহতদের পরিবারের এক সদস্য রাজিমা খাতুন বলেন, "আমাদেরই এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের সঙ্গে আজান শেখের একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। আজ ইদের নামাজ শেষে হঠাৎ করেই আজান শেখ ,তাঁর স্ত্রী এবং আরও কয়েকজন আমাদের বাড়িতে এসে ওই জমি নিয়ে অশান্তি শুরু করে।" রাজিমা বলেন,"যেহেতু ওই বিতর্কিত জমির মালিকানা আমাদের নয় তাই আমরা আজানকে বলে দিই এই সমস্যার সমাধান আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। সেই সময় হঠাৎই আজান শেখ একটি দেশি পিস্তল বার করে ভয় দেখিয়ে আমাদের বাড়ির সদস্যদের মারধর করতে থাকে।"
মহিলার অভিযোগ , আজান বন্দুক বার করতেই তাঁর তিন ছেলে এবং আরও কয়েকজন নিজেদের সঙ্গে আনা আরও তিনটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং শাবল দিয়ে সকলকে ব্যাপক মারধর করে।
রাজমা বলেন, "আমাদের উপর যখন হামলা চলছিল সেই সময় বাড়ির মহিলারা কোনওক্রমে আজানকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ ধরে ফেলেন। গ্রামের অন্য লোকজন আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এলে বাকি দুষ্কৃতীরা নিজেদের সঙ্গে আনা আগ্নেয়াস্ত্রগুলো নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।"
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনার খবর পাওয়ার পরই কান্দি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই এলাকায় পৌঁছে যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেন। কান্দি থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুষ্কৃতীদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।