দু’দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি (BJP Candidate list 2026)। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দিকে দিকে বিক্ষোভের আগুন। পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে প্রার্থীর নাম ঘিরে বিজেপির অন্দরে নজিরবিহীন গৃহযুদ্ধ। জেলার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল শনিবার। আর সেই অশান্তির কারণ হিসেবে জেলা সভাপতির দিকেই আঙুল তুললেন প্রার্থীর ঘনিষ্ঠরা।
নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই বিজেপির অন্দরে ফাটল আরও চওড়া হতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ। শনিবার খড়্গপুরে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের পরে এ বার বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আকচাআকচি। নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরির নাম বাতিলের দাবিতে কর্মীরা যখন অনড়, তখনই জেলা সভাপতির ভূমিকা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলে দিল প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ মহল। যা নিয়ে জেলা রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এ দিন খড়্গপুরে জেলা কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে টেবিল, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে তুমুল বিক্ষোভ দেখান বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের দাবি, রমাপ্রসাদ গিরিকে এলাকার মানুষ ও সাধারণ কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। এ নিয়ে রমাপ্রসাদ গিরি কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না ঠিকই। তবে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিজেপি নেতা শুভাশিস মহাপাত্র এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।
শুভাশিসের দাবি, জেলা সভাপতি সমিত দাস চেয়েছিলেন তাঁর স্ত্রীকে এই নারায়ণগড় আসনে প্রার্থী করতে। সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় এবং টিকিট না পাওয়ায় তিনি সুকৌশলে এই ধরনের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছেন।
জেলা সভাপতি সমিত দাস আগেই জানিয়েছেন, প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এবং এই ক্ষোভের কথা তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। তবে জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে প্রার্থীর অনুগামীদের এমন প্রকাশ্য পাল্টা অভিযোগে জেলায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এক নজিরবিহীন মোড় নিল।
ভোটের আগে বিজেপির অন্দরে এই লড়াইয়ে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবিরের জেলা নেতৃত্ব। সাধারণ কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামলে দল কী ভাবে ভোটের ময়দানে লড়াই করবে?