বীরভূমের রাজনীতিতে ক্রমেই দাপট বাড়ছে কাজল শেখের (Kajal Sheikh)। এক সময়ে যাঁরা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) ছত্রছায়ায় থেকেছেন, তাঁদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে এসে বলছেন, ‘বড় দাদার মতো সকলকে নিয়ে চলেন কাজলদা’। এক সময়ে কাজল শেখের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন, এমন লোকজনও ফিরছেন কাজল-শিবিরে। কেউ কেউ বলছেন, কাজল এখন বীরভূমে তৃণমূলের লড়াকু মুখ, ‘ব্র্যান্ড’। গলা ভারী করে হুঙ্কার ছাড়েন না, শান্ত-নম্র কণ্ঠেই যা বোঝানোর বুঝিয়ে দেন। হাকডাক নেই, ঠান্ডা মাথায় সামাল দেন সংগঠন।
হাসন বিধানসভা কেন্দ্রে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী কাজল শেখ (TMC Candidate Kajal Sheikh)। বর্তমানে তিনি বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি। দলে যে তাঁর গুরুত্ব বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য। এক সময়ে অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতি ছিল জেলার তরুণ নেতা জামশেদ আলি খানের। জেলায় দলের মুখপাত্রও ছিলেন। সেই নেতা হাজির কাজল-শরণে। এ দিকে জামশেদ নিয়ে অনুব্রতকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি তো মনেই করতে পারলেন না, কে এই মুখপাত্র!
অনুব্রত মণ্ডল জেলে যাওয়ার পর থেকেই কাজল শেখের উত্থান শুরু হয়। সেই সময়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জামশেদের স্ত্রীকে জেলা পরিষদে প্রার্থী করার পিছনেও কাজল শেখের বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অধিকাংশ। পরবর্তীতে অনুব্রত মণ্ডল জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে আবার তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান জামশেদ।
কিন্তু সেই অনুব্রতর ‘চিনতে পারছি না’ মন্তব্যের জেরে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং শেষমেশ তিনি ফের কাজল শেখের পাশে বসে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বললেন, ‘কাজল শেখ ব্র্যান্ড। দাদার সঙ্গে আমাদের পরিচয় এবং সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের। মাঝে কোথাও একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সে সব মিটিয়ে আবার একসঙ্গে কাজ করব। যে দিন কাজল শেখকে প্রার্থী করা হয়েছে, সে দিন আমরা তাঁকে প্রার্থী নয়, বিধায়ক ধরে নিয়েছি।’
জামশেদের কথায়, ‘আমার হয়ত মাঝে কোথাও ভুল হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়ত বিরোধিতা করে কাজলদার নামে দু’একটা কথা বলেছি। কিন্তু দাদা বড়, আমি ছোট ভাই। সেই সম্পর্কের মান দাদা রাখলেন। আজ এখানে এলাম, দাদা যে ভাবে আমাকে কাছে টেনে নিলেন। অথচ আর একজন মানুষের সঙ্গে ছাত্র রাজনীতি থেকে থেকেছি, তিনি বলছেন চিনতে পারছেন না। তাঁর হয়ত কর্মী চিনতে ভুল হয় বা কর্মীদের ঠিকঠাক চেনেন না। কাজলদা কর্মীদের দাম দিতে জানেন। আমি ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা। ২০০৮ সালে বিশ্বভারতীতে ভর্তি হই, ২০০৯ সালে জেলার ছাত্র সভাপতি হই। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছিলাম। তার পরে জেলার রাজনীতি। সেখান থেকে বীরভূম জেলায় মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছি।’
শনিবার এই প্রসঙ্গে কাজল শেখ বলেন, আমি কোনওদিনই মনে করি না, জামশেদ আলি খানের সঙ্গে আমার কোনও মনোমালিন্য হয়েছে। ওর স্ত্রী জেলা পরিষদের সদস্য। জামশেদকে জেলার মানুষ চেনেন। কারণ, তিনি বীরভূম জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র। সুতরাং তাঁকে না চেনার কথা নয়। আর কেউ যদি না চিনতে পারেন, সেটা অবশ্যই তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার।’