তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে (TMC-BJP Clash) উত্তপ্ত হয়ে উঠল বরাহনগর (Barahanagar)। শনিবার সন্ধ্যায় গোপাল লাল ঠাকুর রোডে প্রচারে বেরিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (Sayantika Banerjee)। অভিযোগ, সেই সময়ে দলবল নিয়ে তাঁদের উপরে চড়াও হন বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। দু’পক্ষের রীতিমতো হাতাহাতি বেঁধে যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে এসে মহিলা ও কর্মীদের উপরে হামলা চালিয়েছে বিজেপি। তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পদ্মশিবির।
গত রবিবার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে কমিশন। তার পর থেকেই জোর কদমে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রচার। এ দিন সন্ধ্যায় গোপাল লাল ঠাকুর রোডে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ করছিলেন সায়ন্তিকা। অভিযোগ, সেই সময়ে তাঁদের ঘিরে ফেলে বিজেপি। শুরু হয় এলোপাথাড়ি মার। পাল্টা রুখে দাঁড়ায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরাও। রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়।
ঘটনার পরেই তৃণমূল কর্মীদের উপরে হামলার অভিযোগে সরব হন অভিনেত্রী তথা বরাহনগরের প্রার্থী সায়ন্তিকা। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সবাই বহিরাগত। কাউকে চিনি না। আচমকাই হকি স্টিক নিয়ে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমাদের মহিলা আর কর্মীদের বেধড়ক মারধর করেছে।’ বিধানসভা ভোটে বিজেপি হারবে বুঝেই চোরাগোপ্তা আক্রমণ করেছে বলে দাবি সায়ন্তিকার।
তবে সায়ন্তিকার সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বরাহনগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ। পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি কার্যালয়ের সামনে জোর করে পোস্টার লাগানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। হট্টগোলের মধ্যেই নিজের মোবাইল থেকে দু’টি ছবি দেখান তিনি। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কার্যালয়ের সামনে বিজেপির পোস্টার। অন্য ছবিতে সেই কার্যালয়ের সামনেই লাগানো রয়েছে তৃণমূলের ব্যানার, ফেস্টুন।
ছবি দেখিয়ে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সজল বলেন, ‘এই জিনিস আর চলবে না। আমরা ছেড়ে কথা বলব না।’ ধ্বস্তাধস্তির মধ্যেই হ্যান্ডমাইক নিয়ে ‘সায়ন্তিকা গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন তিনি। পাল্টা স্লোগান দেয় তৃণমূলও। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে চলে আসে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। তার পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গিয়েছে।