আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রমশ জট পাকাচ্ছে জোটে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ৩৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আইএসএফ। শুক্রবার ঘোষণা করেছেন নওশাদ সিদ্দিকি। জোটসঙ্গী বামফ্রন্ট দুই দফায় তালিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে ২২২টি প্রার্থী দেবে তাঁরা। ১০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছে লিবারেশন।
আসন নিয়ে রফাসূত্র বার করতে বহুদিন ধরে বৈঠক চলছে বামফ্রন্ট এবং আইএসএফের মধ্যে। শুক্রবার আইএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল আলোচনার মাধ্যমে ২৯টি কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আইএসএফ কেন্দ্র-তালিকা ঘোষণার পরে দেখা গিয়েছে ৩৩টির মধ্যে চারটি আসনে ইতিমধ্যেই প্রার্থী দিয়ে দিয়েছে বামেরা। বীরভূমের মুরারই, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া পশ্চিম এবং মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা। সমস্যা এই চার কেন্দ্রে।
সিপিএম সূত্রে খবর, বামফ্রন্টের উপর চাপ তৈরি করতে এই কৌশল নিয়েছে আইএসএফ। মূলত চারটে আসন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই চারটি আসনের তিনটি সিপিএমের এবং একটি সিপিআইয়ের। যদি একান্তই কোনও রফাসূত্র না বেরিয়ে আসে, তাহলে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের পথে হাটবে আইএসএফ। আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, ওই কেন্দ্রগুলিতে অন্তত ‘দুর্বল’ প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে আইএসএফ-কে। যদিও আইএসএফ দাবি করেছে, বামেদের তরফ থেকে একতরফা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত, নন্দীগ্রাম আসন নিয়ে উভয় পক্ষই অনড় বলে দাবি দলীয় সূত্রে। দলীয় অন্দরে আলোচনা যে, একান্তই যদি জোট ভেঙে যায় তাহলে আখেরে ক্ষতি হবে সিপিএমেরই। কারণ, তাদেরই আইএসএফ-কে দরকার।
এই বিষয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, যে ২৯টি আসনে সর্বসম্মতিক্রমে প্রার্থী ঘোষণার কথা আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তা সঠিক নয়। চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি, তবে নিষ্পত্তির পথে। এর মধ্যে এমন আসন রয়েছে যেখানে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির দাবি রয়েছে। একতরফা কিছু হয় না, উভয়পক্ষকেই দেওয়া-নেওয়া করে এগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। কয়েকটি আসন নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে সিপিআই(এম) এবং আইএসএফ-এর মধ্যে।
শুক্রবার নওশাদ দাবি করেছিলেন, আমদের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে, সেই আলোচনায় বাম এবং আইএসএফ-এর মধ্যে সর্বসম্মতিক্রমে যে আসনগুলিতে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেগুলির ঘোষণা দলের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করবেন। ঘোষণা হতেই দেখা গেল জোটের জটিলতা রয়েই গিয়েছে।