এই সময়, খণ্ডঘোষ: রামজীবনের এখন দুশ্চিন্তা একটাই, একটানা প্রচার চালাবেন কী ভাবে। সংসার চালানোর ভার তাঁর উপরেই। খেতমজুরি করে চলে তাঁঁর সংসার। খণ্ডঘোষ থানার বেরুগ্রাম চণ্ডীপুরের (Chandipur) বাসিন্দা রামজীবন রায়ের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে কলেজে পড়ে। মেয়ে অনেকটাই ছোট। বাড়িতে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছেন মা-বাবা। হারানো আসন পুনরুদ্ধারে এহেন প্রান্তিক শ্রেণির এক মানুষকে এ বার খণ্ডঘোষে প্রার্থী করেছে সিপিএম (Cpim)।
রোজই সকালে কিছুটা সময় মাঠে কাজ সেরে নামছেন প্রচারে নামছেন রামজীবন। তখন তিনি মাঠে কাজ করতেই ব্যস্ত। কাজ করতে করতেই বললেন, ‘আমি ২৫ বছর আগে পার্টির সদস্যপদ পেয়েছিলাম। আজ দল নির্বাচনে লড়াই করার জন্য বলেছে। লড়াই করব। প্রতিদিন মাঠে গিয়ে খেতমজুরি না করলে আমার সংসারে হাঁড়ি চাপে না। পার্টির নির্দেশেই লড়াইয়ে নেমেছি। আমি নিশ্চিত, এই একদা লাল দুর্গ বর্ধমান থেকেই বামফ্রন্ট্রের শূন্যের গেরো কাটবে। লিখে রাখুন।’
ইতিমধ্যেই শাসকদলের পক্ষ থেকে প্রচার শুরু হয়েছে, রামজীবনের স্ত্রী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন। ওঁকেই ওঁর স্ত্রী ভোট দেবেন না। শুনে সিপিএম প্রার্থী বললেন, ‘আসলে রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। এ সব বলছে মানে ওরাও বুঝে গিয়েছে, ওরা এ বারে হারবে।’ রামজীবনের সোজা কথা, ‘একটা সরকারি প্রকল্প। তার সুবিধা রাজ্যের নাগরিকরা নেবেনই। এর মধ্যে অপরাধ কী রয়েছে!’ সেই সঙ্গেই সিপিএম প্রার্থী পাল্টা কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না, ‘আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পেটের অন্ন জোগাড় করি। ওদের মতো বালি-কয়লার টাকায় পেট চালাই না।’
মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করার পরে সংসারের জোয়াল কাঁধে নিতে বাধ্য হন রামজীবন। আর পড়াশোনা চালাতে পারেননি। নিজের বাড়ি বলতে পরিবারের শরিকি সম্পত্তি। সেখানে কোনও রকমে ঘর তৈরি করে রয়েছেন। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য বিনোদ ঘোষ বললেন, ‘বিধানসভায় প্রান্তিক মানুষের জীবন–জীবিকার লড়াইয়ের কথাকে দৃঢ় ভাবে তুলে ধরার জন্যই তাঁদের প্রতিনিধি রামজীবনকে আমরা লড়াইয়ের ময়দানে নিয়ে এসেছি। আর যারা রামজীবনের কোনও কিছু না–পেয়ে প্রচারে এ সব কথা তুলছে, আদপে তারা এখন রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে।’