এই সময়: মার্চের গোড়া থেকেই বজ্রপাত (Thunderstorm) নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন আবহবিদরা। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)–র (NCRB) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ভারতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে যত মৃত্যু হয়, তার প্রায় ৪০ শতাংশ বজ্রপাতের কারণে। একাধিক নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বায়ু দূষণ ও বাতাসে ভাসমান কণাই বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
বিজ্ঞানপত্রিকা ‘জার্নাল অফ জিওফিজ়িক্যাল রিসার্চ: অ্যাটমোস্ফিয়ার্স’–এর ( Journal of Geophysical Research: Atmospheres) গবেষণাপত্রে দেখানো হয়েছে, বাতাসে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র কণা (এরোসল) কী ভাবে দেশে বজ্রপাতকে প্রভাবিত করে। গবেষকদের মতে, মানুষের তৈরি এবং প্রাকৃতিক কারণ — দু’ভাবেই এমন কণার উৎপত্তি। দূষণের মাত্রা, ভাসমান কণার আকার ও আঞ্চলিক আবহাওয়ার ভিত্তিতে বায়ু–দূষণ বজ্রপাত অনেকটা বাড়াতে পারে।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক, আইআইটি–দিল্লির (IIT Delhi) ‘সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্সেস’-এর শুভজিৎ ঘোষাল চৌধুরীর কথায়, ‘দূষণের মাত্রা মাঝামাঝি থাকলে বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ে। এ ক্ষেত্রে বীজের মতো কাজ করে এরোসল। ফলে মেঘে অসংখ্য ছোট জলকণা তৈরি হয়। এগুলিই উপরের স্তরে উঠে বরফের কণা গ্রাউপেল (নরম শিলা)–এ পরিণত হয়। সেগুলির পারস্পরিক সংঘর্ষে যে বৈদ্যুতিক চার্জ উৎপন্ন হয়, সেটাই বজ্রপাতের কারণ।’ পাশাপাশি গবেষকরা দেখেছেন, খুব বেশি দূষণে এই প্রক্রিয়া উল্টে যায়। তখন অতিরিক্ত কণাগুলি মেঘের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করে। মেঘে এরোসল বেশি থাকলেও বজ্রপাতের প্রবণতা কমে। অর্থাৎ, দূষণ একটা মাত্রা পেরিয়ে গেলে বজ্রপাত কমতে থাকে।
এই সীমাবিন্দু (‘টিপিং পয়েন্ট’) মূলত স্থানীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপরে নির্ভরশীল। তবে এই সীমাবিন্দু জায়গা–ভেদে বদলায়। পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলের তুলনায় কম দূষণে এই পয়েন্টে পৌঁছে যায় উত্তর-পূর্ব ভারত। সেখানকার বাতাস বেশি আর্দ্র বলে তা গভীর, শক্তিশালী বজ্রঝড় তৈরির সহায়ক। তাই, মাঝারি দূষণে মেঘের সঞ্চার হয় ও বজ্রপাত বাড়াতে সাহায্য করে। পশ্চিম-মধ্য ভারত তুলনায় অনেক বেশি শুকনো বলে ঝড় তৈরিতে কম উপযোগী।