এই সময়: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) গণজ্ঞাপন ও সাংবাদিকতা বিভাগের দুই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে খাতা না দেখেই নম্বর দেওয়ার যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, তার তদন্ত রিপোর্ট অবশেষে সামনে এল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, অধ্যাপক সান্ত্বন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনও ভিত্তিই নেই। আর এক অধ্যাপক অভিষেক দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে কিছুটা সত্যতা মেলায় তাঁকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা চলছে। বর্তমানে দ্বিতীয় বর্ষের একদল পড়ুয়া এই দুই অধ্যাপকের ক্লাস বয়কট করছেন এবং সম্প্রতি সান্ত্বন ইন্টারভিউ প্যানেলে থাকায় অতিথি অধ্যাপক নিয়োগের প্রক্রিয়াও তাঁরা আটকে দিয়েছিলেন।
এই বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৪–এ। সেই সময়ে মাস কমিউনিকেশন বিভাগের স্নাতকোত্তরের পড়ুয়ারা অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় সেমেস্টারের একটি পেপারে অভিষেক দাস খাতা মূল্যায়ন না করেই নম্বর দিয়েছেন। পরবর্তীকালে সান্ত্বনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই অধ্যাপককে শোকজ় করেন এবং উত্তরপত্রগুলি ফের যাচাই করার জন্যে বাইরের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠান। দেখা যায়, সান্ত্বনের দেওয়া নম্বরের সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।
এই প্রসঙ্গে সান্ত্বন জানান, তিনি নিজেই উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে দ্রুত তদন্তের ফলপ্রকাশের অনুরোধ করেছিলেন যাতে বিভাগের বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না হয়। উপাচার্য তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। যদিও এই পর্বে নানা ভাবে পড়ুয়াদের একাংশের বিরুদ্ধে সান্ত্বনকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে ক্যাম্পাসে ওআরএস এবং মালা পরিয়ে হেনস্থা করেন এক প্রাক্তনী। এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ক্লাসও করাতে পারছিলেন না। যদিও সান্ত্বন বলছেন, ‘সত্য সামনে আসা জরুরি ছিল। ছাত্রছাত্রীদের উপরে আমার কোনও রাগ বা অভিমান নেই।’
তবে অভিষেক দাসের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তদন্তে তাঁর মূল্যায়নে কিছু বিচ্যুতি ধরা পড়েছে। সেই কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হয়ে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন এবং জানিয়েছেন, পরবর্তীতে এমন ঘটনা ঘটলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এই বিষয়ে অভিষেক কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই গুঞ্জন, যে ব্যাচের ছাত্ররা অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁরা পাশ করে বেরিয়ে গেলেও বর্তমানের কিছু পড়ুয়া এই ইস্যুটিকে জিইয়ে রেখে পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজে বাধা দিচ্ছেন। অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্যে ওই বিভাগের পরিবেশ এখনও স্বাভাবিক নয়। ছাত্র বিক্ষোভের জেরে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বার বার বাধা পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্য শিক্ষকরাও।