• ধসে যাবে হিমবাহ? হাই অ্যালার্ট জারি পূর্ব সিকিমে
    এই সময় | ২২ মার্চ ২০২৬
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি

    ২০২৩–এ সিকিমে সাউথ লোনাক লেক (Sikkim South Lonak Lake) বিপর্যয়ের স্মৃতি আজও টাটকা। তার মধ্যেই এ বার পূর্ব সিকিমে হিমবাহ ধসের পূর্বাভাস (Glacier Avalanche Forecast) জারি করল 'ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট' (ডিআরডিই) (DRDI) এবং সিকিমের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর (Sikkim Disaster Management Office)। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব সিকিমের নাথুলা, জ়ুলুক, নাথাং ভ্যালি এলাকায় হিমবাহে ধস নামতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিষয়টিতে উদ্বিগ্ন সে রাজ্যের প্রশাসন। কারণ, ইদানীং সিকিমে হিমবাহে ধস নামার কোনও ঘটনা ঘটেনি। কোনও সতর্কতাও জারি করা হয়নি। গ্যাংটক এবং পাকিয়ং প্রশাসনকে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

    বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত এবং পশ্চিমি ঝঞ্ঝা মিলেমিশে হিমালয় সংলগ্ন এলাকাগুলিতে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে সিকিম, দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সেই সঙ্গে শিলাবৃষ্টি, স্নো–ফল, ঝড়— এই 'ত্রিফলা'–য় জনজীবন বিপর্যস্ত। শুক্রবার রাতভর স্নো–ফল হয় উত্তর সিকিমের লাচুং, লাচেনে, একই ভাবে পূর্ব সিকিমের নাথুলা, ছাঙ্গু, জ়ুলুকেও তুষারপাত হয়েছে।

    এমনকী, স্নো–ফলের জেরে পুরু বরফে ঢেকে গিয়েছে দার্জিলিংয়ের সান্দাকফু (Sandakphu in Darjeeling), ফালুট। তুষারপাতের জেরে মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে আটকে পড়েছেন জনা পঞ্চাশেক পর্যটক। সকলেই অবশ্য নিরাপদে রয়েছেন। তবে বরফ গলে রাস্তা পরিষ্কার না-হলে তাঁদের মানেভঞ্জন পেরিয়ে শিলিগুড়িতে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়।

    কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের অনুমান, রবিবার দুপুরের পর থেকে আবহাওয়ায় উন্নতি ঘটবে। ফলে সোমবার পর্যটকদের সান্দাকফু থেকে ফেরানো সম্ভব হবে। তবে শনিবারও পাহাড়ে বৃষ্টি এবং তুষারপাত চলেছে। তার মধ্যে পূর্ব সিকিমে হিমবাহে ধসের সতর্কতা জারি হওয়ায় সিকিমের পাশাপাশি বাংলার দার্জিলিংয়ের প্রশাসনের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, গত ১৪ মার্চ বঙ্গোসাগরে বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়। বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প ঢুকতে শুরু করে সিকিম এবং দার্জিলিংয়ের হিমালয় এলাকায়। এর জেরে গত কয়েক দিন ধরে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সিকিমে শিলাবৃষ্টি এবং ঝড় হয়েছে।

    এরই মধ্যে গত ১৭ মার্চ পশ্চিমীিঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়। তার জেরে কাশ্মীর থেকে অরুণাচল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি এবং তুষারপাতের সতর্কতা জারি করা হয়। এরই মাঝে বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত এবং পশ্চিমি ঝঞ্ঝা মিলিয়ে অভূতপূর্ব আবহাওয়া সৃষ্টি হওয়ায় হিমবাহ ধসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সতর্কতা জারি হয়েছে। জনমানবহীন নাথুলায় কেবল সেনা ছাউনি রয়েছে। ফলে সেনা ছাউনিতে ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, নাথাং ভ্যালিতে ছোট ছোট পাহাড়ি গ্রাম রয়েছে। সেখানেও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা। তবে সিকিমের প্রশাসন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সতর্ক করেছে। ইতিমধ্যেই কর্মীরা সেই এলাকায় চলে গিয়েছেন। সেনাও প্রস্তুত। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের গ্যাংটক শাখার অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, 'শনিবার রাতেও এই এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং স্নো–ফলের সতর্কতা রয়েছে। রবিবার দুপুরের পরে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে।'

  • Link to this news (এই সময়)