• RG KAR CASE: ছেলের মৃত্যুর সুরাহা চাই, আদালতে যাচ্ছেন অমল
    এই সময় | ২২ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: আরজি করের লিফট বিপর্যয়ের (RG KAR LIFT DISASTER) ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে টালা থানার পু‍লিশ (TALA POLICE STATION)। এদের মধ্যে তিনজন লিফটম্যান এবং দু’জন নিরাপত্তাকর্মী। তবে এই ঘটনায় যুক্ত সকলকে শাস্তি দিতে হবে বলে এ দিন দাবি তুলেছেন মৃত অরূপের বাবা অমল বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি বলেন, ‘শুধু নিচুতলার কয়েকজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে দায় সারলে হবে না। কয়েকটা দিন অপেক্ষা করব। তার মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও পরিকাঠামোর কঙ্কালসার চেহারার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করব।’ তাঁর কথায়,‘আমার ছেলে তো আর ফিরবে না, কিন্তু এই মরণফাঁদ যারা তৈরি করে রেখেছে, কাউকে রেহাই দেব না।’

    শুক্রবার ভোর রাতে আরজি কর হাসপাতালের লিফটে আটকে মৃত্যু হয় দক্ষিণ দমদম পুরসভার অস্থায়ী কর্মী অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই ঘটনায় হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার থেকে শুরু করে চিকিৎসক সংগঠনগুলি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কর্তব্যে গাফিলতি এবং অবহেলার অভিযোগকে সামনে রেখে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন প্রকাশনা সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী অমলবাবু। প্রতিবেশী বিজয় চক্রবর্তী বলেন,‘আমরা সকলে ওঁর পাশে আছি। আর কোনও মায়ের কোল খালি হতে দেব না।’

    ছেলের হঠাৎ মৃত্যুতে দিশেহারা অমলের এখন একমাত্র চিন্তা তিন বছরের নাতি আরুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে। অরূপ ও তাঁর স্ত্রী সোনালি দুজনেই দক্ষিণ দমদম পুরসভার (South Dumdum Municipality) অস্থায়ী কর্মী ছিলেন। সোনালি পদার্থবিদ্যায় এমএসসি করার পরে বিএড করেছেন। কিন্তু, ভালো চাকরি না পাওয়ার কারণে অস্থায়ী কাজ করছেন। মৃত যুবকের বাবা চান, নাতিকে মানুষ করার জন্য বৌমার একটা সরকারি চাকরি। প্রতিবেশী সুদীপা কর্মকারের কথায়,‘সোনালি উচ্চশিক্ষিত। তাই সরকারি চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা ওঁর রয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে জ’পুর এলাকার কাউন্সিলার তথা দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সঞ্জয় দাস বলেন,‘এখন নির্বাচনের সময় বলে আমরা কিছু ঘোষণা করছি না। তবে, দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরিবারের পাশে আমরা সবরকম ভাবে আছি।’

    শুক্রবারই অরূপের চার বছরের ছেলে আরুষ এবং স্ত্রী সোনা‍লিকে আরজি কর থেকে সরিয়ে ইএম বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। শনিবার সন্ধ্যায় মা–ছেলে ঘরে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে দুজনের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে, ছোট্ট আরুষ জানে না বাবা আর নেই। জ’পুর রোডে দু’কামরার ফ্ল্যাটে ঘরভর্তি মানুষের ভিড়ে এক কোণে পাথরের মতো বসে থাকা অরূপের মা গায়েত্রী শুধু আউরে চলেছেন একটাই কথা, ‘নাতিটা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে বাবাকে খুঁজছে। কিন্তু, কিছুই বলতে পারছি না।’

  • Link to this news (এই সময়)