বিধানসভা নির্বাচনের মাঠে প্রার্থীদের লড়াই চলার পাশাপাশি যুযুধান দুই রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে প্রতিশ্রুতির লড়াইও চলছে জোর কদমে। নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপিরও ‘সঙ্কল্প পত্র’ তৈরির কাজ চলছে জোর কদমে। সব ঠিক থাকলে আগামী ২৬ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যেই প্রকাশ হতে পারে বিজেপির নির্বাচনী সঙ্কল্প (ইস্তাহার)। সূত্রের খবর, সেখানে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘যুব-সাথী’ প্রকল্পের ধাঁচেই প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বিজেপি। তবে আর্থিক অনুদানের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানোর কথা বলতে পারে তারা।
ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং দলীয় স্তরে মোর্চা-ভিত্তিক প্রস্তাবগুলি একত্রিত করে পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। তাঁদের শেষ মুহূর্তের সংযোজন-বিয়োজনের পরেই ‘সঙ্কল্প পত্র’ প্রকাশ করে দেওয়া হতে পারে। বিজেপি সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে প্রথম সারির একাধিক বিজেপি নেতা প্রকাশ্যেই বলেছেন ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণার ভান্ডার’ করে মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। যা তৃণমূল সরকারের এখনকার প্রদেয় দেড় হাজার টাকার দ্বিগুণ। আবার ‘যুব-সাথী’ প্রকল্পে তৃণমূল সরকার প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে দিচ্ছে। বিজেপি সূত্রের খবর, বিজেপি ‘যুবশক্তি’ প্রকল্প আনতে চলেছে। সেই প্রকল্পেও আর্থিক অঙ্ক বর্তমান সরকারের আমলে প্রদেয় অর্থের দ্বিগুণ হতে চলেছে। এর আগেই অবশ্য যুব মোর্চার তরফে ‘সঙ্কল্প পত্র’ কমিটির কাছে প্রস্তাব গিয়েছিল, মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণরত অবস্থায় মাসে ২৫ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেবে সরকার। অর্থাৎ সব মিলিয়ে দেখতে গেলে, যাঁরা প্রশিক্ষণ নেবেন, তাঁদের জন্য যেমন কর্মসংস্থান এবং উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে, তেমনই যাঁরা সেই যোগ্যতামান পার করতে পারবেন না, তাঁরাও বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভাতা পাবেন বলেই সূত্রের দাবি।
এ ছাড়া, সরকারি সম্পত্তির বেআইনি ভাবে হাতবদল নিয়ে তদন্ত, ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) সংরক্ষণ নিয়ে কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকছে ‘সঙ্কল্প পত্রে’।
পাশাপাশি, নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় সমীক্ষা স্বস্তিতে রাখছে বিজেপিকে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানি প্রক্রিয়া শেষের পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। এখনও ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য পরীক্ষা ঝুলে রয়েছে। এসআইআর-এর ফল কি বিজেপির ঝুলি ভরাবে, সেই নিয়ে কৌতূহল আছে দলের অন্দরে। তিন সমীক্ষক সংস্থার সমীক্ষায় কিঞ্চিৎ স্বস্তি মিলছে বিজেপি শিবিরে। সূত্রের খবর, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সমীক্ষায় বিজেপির ৮৮ আসনের ইঙ্গিত ছিল। এসআইআর শুরু হওয়ার পরে প্রথম মাসে সেই আসনের পূর্বাভাস বেড়ে হয়েছিল ১১০। সমীক্ষক দলের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি গত বছর শেষ করেছিল সর্বোচ্চ ১৩৫টি আসন পেতে পারে ধরে নিয়ে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সূত্রের খবর, তিনটি সমীক্ষক সংস্থার করা সমীক্ষার ফল অনুযায়ী, বিজেপি সর্বনিম্ন ১৩৫টি আসন পেতে পারে। সর্বোচ্চ পেতে পারে ১৬৮টি আসন। যেখানে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তেলাগবে ১৪৮।
এই সমীক্ষা সামনে আসার পরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বের। তবে অতীতের ঘটনা স্মরণ করে তাঁরা ‘আত্মতুষ্টি’র পথে হাঁটছেন না। এক রাজ্য নেতার বক্তব্য, ‘‘জিতে গিয়েছি, এই মনোভাব থেকে গত বিধানসভায় কর্মীরা বুথে পৌঁছননি। যার ফল ভুগতে হয়েছিল নির্বাচনের দিন, গণনার দিন। এ বার আমরা সেই ভুল করব না। আগে হাতে শংসাপত্র নেব, তার পরে অন্যকিছু ভাবব!’’