• অন্ধকার জগতের হাতছানি নিয়ে সিনেমা এক ঝাঁক তরুণের
    এই সময় | ২২ মার্চ ২০২৬
  • বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, রূপনারায়ণপুর

    একেই বলে শুটিং!

    সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray) যখন ১৯৭৯ সালে সিনেমা তৈরির খুঁটিনাটি বইয়ের আকারে লিখে প্রকাশ করছেন, তত দিনে তাঁর কেরিয়ারে চব্বিশটা বসন্ত পার। পথের পাঁচালি থেকে শতরঞ্জ কে খিলাড়ি — কালজয়ী ২১টি ছবি বানিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু এদের তো বয়সই ১৯–২০! এরা সিনেমার কী বোঝে? ছবি তৈরির স্বপ্নে বুঁদ ওই তরুণ–তরুণীরা আশপাশের সেই ফিসফাস, সন্দেহ, অবিশ্বাসের জবাবটা দিলেন একেবারে সিনেমা তৈরি করেই। একঝাঁক কলেজ পড়ুয়ার অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে নির্মিত একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হলো পশ্চিম বর্ধমানের রূপনারায়ণপুরে (Rupnarayanpur, West Burdwan), হিন্দুস্তান কেবলস শ্রমিক মঞ্চে। উপস্থিত ছিলেন কয়েকশো দর্শক। এই প্রথম এমন উদ্যোগের সাক্ষী থাকল রূপনারায়ণপুর। কলেজ পড়ুয়াদের কুর্নিশ জানিয়েছেন বিশিষ্টরা।

    সিনেমাটির নাম ‘সিস্টেম অফ টেনেট’। মূলত একটি ক্রাইম থ্রিলার। তবে এর পরতে পরতে মিশে আছে গভীর সামাজিক বার্তা। কলেজের সাধারণ পরিবেশের আড়ালে ছাত্রছাত্রীরা অজান্তেই কী ভাবে বিভিন্ন বেআইনি বা অনৈতিক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে, সেই সংবেদনশীল বিষয়টিকেই ক্যামেরার লেন্সে তুলে ধরেছেন এই তরুণ তুর্কিরা। মূলত ছাত্রছাত্রীদের এই সমস্ত অন্ধকার জগৎ সম্পর্কে সচেতন করাই সিনেমাটির মূল উদ্দেশ্য। চিত্তরঞ্জন, রূপনারায়ণপুর এবং ঝাড়খণ্ডের পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু মনোরম অথচ রোমহর্ষক লোকেশনে সিনেমাটির চিত্রায়ন করা হয়েছে।

    দুই বন্ধু রূপায়ণ উকিল এবং বসুমিত্র মণ্ডল এই সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন। এক কথায় দুরন্ত চিত্রনাট্য। পরিচালনার গুরুদায়িত্বও সামলেছেন বসুমিত্র। অভিনয় বিভাগেও তারুণ্যের জয়গান শোনা গিয়েছে। প্রধান চরিত্রে রূপায়ণ ছাড়াও স্বর্ণদীপা রায়, পুরুষোত্তম ঠাকুর, অরিজিৎ রায়, শুভ্রজিৎ সিংহ এবং স্বরূপ সেনের অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কার্যত বিনা প্রশিক্ষণে তাঁদের পরিপক্ক ও দক্ষ অভিনয় বুঝিয়ে দিয়েছে, সুযোগ পেলে প্রান্তিক অঞ্চলের এই প্রতিভারা জাতীয় স্তরেও নাম উজ্জ্বল করতে পারে। তরুণদের সঙ্গে এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন প্রবীণরাও। পিনাকী মজুমদার, সঞ্চিতা দাস, পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়দের সহযোগিতা ঝকঝকে চিন্তার এই তরুণদের আরও উৎসাহিত করেছে।

    এই সিনেমায় একটি গান লিখেছেন স্থানীয় এক তরুণ কবি দীপ্র দাস চৌধুরী। সিনেমাটি সম্পাদনাও করেছেন আর এক তরুণ সৌভিক পাল, এই এলাকারই আল্লাডি গ্রামের ছেলে। ছবির পরিচালক কলেজ পড়ুয়া বসুমিত্র বললেন, ‘মাধ্যমিক দেওয়ারও আগেই মনে হয়েছিল, আমাদের এই এলাকায় সাংস্কৃতিক চর্চা প্রচুর হয়। নাটক, গান, আবৃত্তি অনেক কিছু হয়। কিন্তু এখানকার পড়ুয়া হিসেবে যদি আমরা কোনও চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারি, তা হলে কেমন হয়!’ বসুমিত্র বলে চলেন, ‘অথচ আমাদের তেমন কিছুই ছিল না। নিজেই ক্যামেরা কিনলাম। রূপায়ণকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে একটা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি বানাই। সেই ছবি থেকেই উৎসাহিত হয়ে এই কাজটা করলাম। যারা কলেজে ভর্তি হতে যায়, এই ছবি তাদের কাছে একটা মেসেজ।’ এ দিনের এই বিশেষ প্রিমিয়ার শো-তে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান, সালানপুর ব্লকের শাসকদলের সহ-সভাপতি বিজয় সিং–সহ অনেকেই। সবাই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিনেমাটির কুশীলবদের।

  • Link to this news (এই সময়)