এই সময়: উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), দক্ষিণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)— রাজ্যের দু'প্রান্ত থেকে একই দিনে টানা নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী ও জোড়াফুলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আগামী মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে (Alipurduar Parade Ground) প্রথম নির্বাচনী জনসভা করতে চলেছেন মমতা। অভিষেক ওই দিনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থেকে ভোটপ্রচার শুরু করতে চলেছেন। আগামী কয়েক দিনের জন্য দু'জনের টানা প্রচারসূচি তৈরি হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর।
বাংলায় দু'দফায় নির্বাচন পর্বে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল, শেষ দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ হবে। আগামী ২৪ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফার ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত যে সময়সীমা পাওয়া যাবে, তার মধ্যে মমতা–অভিষেকের মোট জনসভা, রোড–শোর সংখ্যা দু'শোর কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রথম নির্বাচনী সভার পরে ওই দিনই উত্তরবঙ্গের মাটিগাড়া ও ময়নাগুড়িতে জনসভা করতে পারেন তৃণমূলনেত্রী। অভিষেক মঙ্গলবার পাথরপ্রতিমায় প্রথম সভা করবেন, পরদিন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা কর্মিসভা করবেন নন্দীগ্রামে। বেশ ক'মাস আগে অভিষেক নন্দীগ্রামের (Nandigram) দু'টি ব্লকে তৃণমূলের সংগঠন নতুন করে সাজিয়েছেন।
একদা শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসেবে পরিচিত পবিত্র কর এ বার সেখানে জোড়াফুলের প্রার্থী। নন্দীগ্রামে 'সেবাশ্রয়' শিবিরের সূচনার দিন অভিষেক সেখানে গিয়েছিলেন। এ বার সেখানে কর্মিসভা করে পূর্ব মেদিনীপুরে প্রচার শুরু করতে চলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর, কেশিয়াড়ি, নারায়ণগড়ে জনসভা করে নন্দীগ্রামে কর্মিসভা করবেন অভিষেক। দুই মেদিনীপুরে নির্বাচনী প্রচার সেরেই ২৬ মার্চ অভিষেক উত্তরবঙ্গে যাবেন বলে খবর। নাটাবাড়িতে জনসভা করবেন তিনি। ওই দিন কালচিনিতে তাঁর রোড–শোও রয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত অভিষেকের প্রচারসূচি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রচার করতে চলেছেন। নন্দীগ্রামে কর্মিসভার পরে অভিষেক ৩০ মার্চ কাঁথি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বকে নিয়ে বিশেষ বৈঠক করবেন বলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নেতৃত্বের বক্তব্য।
গত মঙ্গলবার জোড়াফুলের প্রার্থী তালিকা এবং শুক্রবার ইস্তেহার ঘোষিত হলেও ইদের কারণে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব উৎসবের দিনগুলি কেটে যাওয়ার পরেই টানা প্রচারে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম দফার ভোটের আগে মোটামুটি চার সপ্তাহ প্রচারের সময় পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আরও কয়েক দিন পাওয়া যাবে। তাই মমতা–অভিষেক এক এক দিনে দু'–তিনটি করে সভা করতে চলেছেন বলে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দু'টি বিধানসভাকে নিয়ে একটি প্রচারসভাও হতে পারে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে পর্যন্ত প্রচারের যে মাসখানেক সময় পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে মমতা–অভিষেক দু'জনে দিন গড়ে তিনটি করে সভা, রোড–শো করলে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রচার কর্মসূচির সংখ্যা দু'শোর কাছাকাছি পৌঁছে তো যাবেই, তার বেশিও হতে পারে বলে জোড়াফুলের নেতাদের পর্যবেক্ষণ। প্রচার শুরুর আগে আজ, রবিবার চেতলায় একটি অডিটোরিয়ামে ভবানীপুরের কাউন্সিলার, নেতা–কর্মীদের নিয়ে সভা করতে চলেছেন মমতা।
ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের বুথ–স্তরের কর্মীরা সভায় থাকবেন। সেখানে তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ–২) টিমও থাকবে। মমতা ছাড়াও থাকবেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, ফিরহাদ হাকিম, দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি দেবাশিস কুমার। ভবানীপুরে তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের প্রচারের রোড–ম্যাপ এই সভায় ব্যাখ্যা করবেন দলনেত্রী। ভবানীপুরে তৃণমূলের ভোট–মেশিনারি সাজানো নিয়ে সুব্রত বক্সী, ফিরহাদরা দলীয় কাউন্সিলার–নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে কিছু স্ট্র্যাটেজি ঠিক করা হয়েছে। শনিবার ভবানীপুরে বিজেপির বিরুদ্ধে জোড়াফুলের পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। বিজেপির এক নেতার পাল্টা দাবি, 'যেখানে ঘরে ঘরে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী, সেখানে আমাদের কর্মীরা পোস্টার ছিঁড়েছে বলে অভিযোগ জানায় কী করে? মানে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন।'