এই সময়: নরেন্দ্র মোদী, (Narendra Modi) অমিত শাহরা (Amit Shah) তো আছেনই, কিন্তু বাক্স–প্যাঁটরা গুছিয়ে তৈরি থাকতে হবে শমীক ভট্টাচার্য ও সুকান্ত মজুমদারকেও। কারণ, বঙ্গে এ বার দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো বঙ্গ–বিজেপির নেতাদেরও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভোট প্রচারের রুট ম্যাপ অনুযায়ী, আগামী এক মাস গোটা রাজ্য চষে বেড়ানোর জন্য তৈরি হতে বলা হয়েছে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্তকে। জেলায় জেলায় ঘুরে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার করবেন রাজ্যসভা ভোটে জয়ী বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহাও (Rahul Sinha)।
২০২১–এর বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গ–বিজেপিতে কার্যত কায়েম হয়েছিল কেন্দ্রীয় শাসন। দিল্লি থেকে বিজেপির তাবড় নেতারা উড়ে এসেছিলেন বাংলায়। কার্যত দিল্লি–কলকাতা ডেলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করেছিলেন মোদী–শাহরা। এ বারও তাঁরা আসবেন। চুটিয়ে প্রচারও করবেন। যেমন, এ বারের ভোটযুদ্ধে সব থেকে হাই–ভোল্টেজ আসন কলকাতার ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে রোড–শো করার পরিকল্পনা আছে নমোর। এ ছাড়াও উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ১২টি জনসভা করার কথা তাঁর। শাহ এ রাজ্যে ১৪টি জনসভা করবেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু গত বারের মতো এ বার আর বঙ্গ–বিজেপি নেতৃত্বকে দিয়ে 'পার্শ্ব চরিত্রে' অভিনয় করাতে চান না দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের সঙ্গে প্রচারে সমান তালে সঙ্গত করবেন শমীক–সুকান্তও। বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় (BJP leader Locket Chatterjee) আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি ভোটে লড়তে চান না। তাঁকেও প্রচারে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে গেরুয়া শিবির।
গত বিধানসভা ভোটে নির্বাচনী সভাগুলি মূলত বরাদ্দ হয়েছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য। সেখানে সভা শুরুর দিকে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ জুটেছিল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের হাতেগোনা কয়েজন নেতার। েজলার নেতারা অনেকে সেই মঞ্চে ওঠার সুযোগটুকুও পাননি। সূত্রের খবর, এ বারের নির্বাচনী প্রচারে এমন অনেক জনসভা হতে চলেছে যেখানে কোনও কেন্দ্রীয় নেতাকে দেখা যাবে না। বরং প্রধান বক্তা হিসেবে নাম থাকবে শমীক, সুকান্তদের।
বঙ্গ–বিজেপির আরও দুই হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষ (Shuvendu Adhikari and Dilip Ghosh) ভোটে প্রার্থী হয়েছেন। শুভেন্দু লড়ছেন ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম থেকে। দিলীপ প্রার্থী হয়েছেন খড়্গপুর সদরে। কিন্তু তাঁরা শুধু নিজেদের কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। দলীয় সূত্রে খবর, তারকা প্রচারক হিসেবে শুভেন্দু–দিলীপকেও বাছাই করা কিছু কেন্দ্রে প্রচারে পাঠানো হবে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, 'বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী ভিন রাজ্যের কেউ হবেন না। এ রাজ্যের কোনও পদ্ম নেতাই হবেন।
ভিন রাজ্য থেকে পার্টির নেতারা এখানে বাংলার নেতা হতে আসছেন না, এটা সবাইকে বুঝতে হবে। তাঁরা আসছেন বাংলার বিজেপি নেতাদের সহযোগিতা করতে। তাই মোদী–শাহরা প্রচারের ঝাঁজ বাড়াবেন ঠিকই, কিন্তু এ বার বঙ্গে ভোটযুদ্ধের আসল সেনাপতি বাংলার বিজেপি নেতারাই।' সুকান্তর কথায়, 'আমি বিজেপির এক জন সৈনিক। পার্টি আমাকে যেখানে প্রচারে পাঠাবে, সেখানেই যাব। বাংলা থেকে অশুভ শক্তি তৃণমূলকে উৎখাত করার জন্য গোটা বিজেপি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছে।' বিজেপির জেলাস্তরের নেতাদের বরাবরের আক্ষেপ, ভোট এলে কেন্দ্র এবং রাজ্য নেতাদের দাপাদাপিতে তাঁরা ভিড়ে হারিয়ে যান। তাঁদের অনেকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী জনসভাগুলির মঞ্চে ওঠার সুযোগ পান না বলেও অভিযোগ। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, 'এ বার আর তেমনটা হবে না। পার্টির স্থানীয় নেতারা যোগ্য সম্মান পাবেন। কারণ, সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের কাছে তাঁরাই তো বিজেপির মুখ।'