সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়
বিধানসভা ভোট মিটলেও এ বার বাংলায় ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়া হবে অন্তত এক মাসের জন্য। শনিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) (Election Commission) সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। ২০২১–এর বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসা থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন রাজ্যের আইন–শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও ঝঁুকি রাখতে চাইছে না। এ বারই বেনজির ভাবে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার অনেক আগে দু’দফায় বাংলায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে গিয়েছে। দফায় দফায় আরও প্রায় ১৯০০ কোম্পানি বাহিনী আসবে বাংলায়। তার মধ্যে ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরেও ৫০০ কোম্পানি বাহিনী রেখে দেওয়া হবে বাংলায়।
সূত্রের খবর, কমিশনের এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও (Home Ministry) জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজ্যে এই সংখ্যক বাহিনী থাকবে। এটাও এক কথায় নজিরবিহীন বলে জানাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ। অতীতেও ভোটের পরে কিছু দিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও সময় ও সংখ্যার নিরিখে এ বারের মতো সিদ্ধান্ত আগে কখনও নেওয়া হয়নি। ভোটের ফল প্রকাশের পরে যেটুকু বাহিনী থাকত, তা–ও রাজ্যের নতুন সরকারের নির্দেশ মতো ধাপে ধাপে অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে যেত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকেও এই ধরনের নির্দেশিকা আগে দেওয়া হয়নি।
কমিশন কর্তাদের মতে, হিংসামুক্ত রক্তপাতহীন ভোট করাই কমিশনের লক্ষ্য। কমিশন মনে করে, অন্যান্য রাজ্যে নির্বাচনী হিংসা অনেকখানি বন্ধ করা সম্ভব হলেও পশ্চিমবঙ্গ এখনও ব্যতিক্রম। গত বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসায় খুন, খুনের চেষ্টা, ধর্ষণের মতো মামলার তদন্ত সিবিআই করছে। এ ছাড়া গত বেশ কয়েকটি লোকসভা-বিধানসভা থেকে পঞ্চায়েত ভোটে প্রাণহানির নজির রয়েছে। তাই প্রথম থেকেই কমিশন এ ব্যাপারে সতর্ক। তাই কমিশন এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে ভোটের পরেও রাজ্যে কিছুদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার পক্ষে প্রস্তাব দিয়েছিল। যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গ্রহণ করেছে।
কমিশনের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বর্তমানে থাকা ৪৮০ কোম্পানি বাহিনীর পরে আরও পাঁচ দফায় ১৭ এপ্রিলের মধ্যে ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে আসবে। যার মধ্যে ৩৪৮ কোম্পানি হরিয়ানা, বিহার, উত্তরখণ্ড, অসম, পাঞ্জাব, গোয়া, রাজস্থান–সহ বিভিন্ন রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ। ২৯ এপ্রিল ভোট শেষ হওয়ার পরে ১৭০০ কোম্পানি বাহিনী ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বঙ্গের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী জোগান দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ২৩৪ কোম্পানি সিআরপিএফ, বিএসএফ ও এসএসবি তুলে আনছে। এ ছাড়া উত্তর–পূর্ব ভারতের মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ ও ত্রিপুরা থেকেও কিছু কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে।
ভোটের আগে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে শুধুমাত্র সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে রুট মার্চ করিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে নারাজ কমিশন। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের বার্তা দিতে এ বার প্ল্যাকার্ড, ব্যানার বা ফেস্টুন হাতে এলাকায় দেখা যাবে আগ্নেয়াস্ত্রধারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। ভোটের দিন একজন ভোটারের কী কর্তব্য, শান্তিরক্ষায় বাহিনীর সঙ্গে ভোটাররা কী ভাবে সহযোগিতা করবেন— এই সংক্রান্ত পরামর্শ–সহ লিফলেট জওয়ানদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার পরে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কী ভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নিয়ে কমিশন রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে বৈঠকও করেছে।
বঙ্গে বাহিনী
— ১০ মার্চের মধ্যে দু’দফায় এসেছে ৪৮০ কোম্পানি
— ৩১ মার্চ ৩০০ কোম্পানি— ৭ এপ্রিল ৩০০ কোম্পানি
— ১০ এপ্রিল ৩০০ কোম্পানি
—১৩ এপ্রিল ২৭৭ কোম্পানি
—১৭ এপ্রিল ৭৪৩ কোম্পানি
**কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ রয়েছে ৩৪৮ কোম্পানি