প্রশান্ত ঘোষ, সোনারপুর
ফের তারকার লড়াই সোনারপুর দক্ষিণ (Sonarpur South) কেন্দ্রে। ২০২১–এ বিজেপির (BJP) প্রার্থী টিভি সিরিয়ালের পরিচিত মুখ অঞ্জনা বসুকে (Anjana Basu) হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন তৃণমূলের, অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র। এ বার তাঁর বিপরীতে মহাভারতের রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (Rupa Gangopadhyay)। তবে সমীকরণ আরও জটিল করে লড়াইয়ে নেমেছেন আরও এক অভিনেত্রী, প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী রাজন্যা হালদার। পাশাপাশি বামফ্রন্টের হয়ে ময়দানে রয়েছেন সিপিআই প্রার্থী পারমিতা দাশগুপ্ত।
লাভলি এ বার টিকিট পাবেন না — এমন জল্পনার মধ্যেই দল তাঁকে ফের টিকিট দিয়েছে। গত পাঁচ বছর বিধায়ক হিসেবে মাটি কামড়ে জনসংযোগ করেছেন লাভলি। রাজপুর-হরিনাভির মতো বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক সভা করে সংগঠন মজবুত করেছেন। তবে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, 'যে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তারকা বলে আলাদা গুরুত্বের কিছু নেই।' রূপাও ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে বলেন, 'তিনজনই মহিলা প্রার্থী। কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত লড়াই নেই।' বিজেপি রূপাকে প্রার্থী ঘোষণা করতেই কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা গিয়েছে। রূপা প্রথম দিন প্রচারে এসে জানান, 'হেভিওয়েট বলে কাউকে মনে করি না, আমার ওজনটাই একটু হেভি।' পরিচিতি এবং সাংগঠনিক জোরে তিনি দ্রুত মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এঁজের মধ্যেই জায়গা করে নিতে চাইছেন রাজন্যা। এক সময়ে তৃণমূলের সক্রিয় মুখ হলেও, দলছাড়া হয়ে 'জনসংগ্রাম মঞ্চ' গড়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই তাঁর সমর্থনে এলাকায় পোস্টার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু হয়েছে। রাজন্যার দাবি, 'এখানে যারা দাঁড়িয়েছেন, কেউই প্রকৃত স্থানীয় নন। সোনারপুরের সমস্যার সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। মানুষের দাবিতেই আমি প্রার্থী।' আসানসোল দক্ষিণেও প্রার্থী হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক বিস্তার ঘটানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, আলোচনার বাইরে থাকলেও সংগঠনের জোরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সিপিআই প্রার্থী পারমিতা দাশগুপ্ত। ছোট ছোট সভা, মিছিল ও ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্য, 'এখানে তারকার লড়াই নয়, রুজি-রুটির লড়াই।' রবিবার হরিনাভি থেকে মিছিলের ডাকও দিয়েছেন তিনি।
সোনারপুর দক্ষিণে এ বার লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, ভাবমূর্তি, জনপ্রিয়তা ও মাটির টানেরও। ২০২১ বিধানসভায় এই কেন্দ্রে লাভলি জিতেছিলেন ২৬ হাজার ১৮১ ভোটে। ২০২৪ লোকসভায় ব্যবধান কমে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বিজেপির থেকে ৯৭০০ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। যা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে কম লিড শাসক দলের।