এই সময়: 'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার'- কথাটা প্রায়ই বলে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁরই দলের নেতা-নেত্রীরা শনিবার, ইদের (EID) দিন বুঝিয়ে দিলেন, তাঁরাও কথাটা জানেন এবং মেনেও চলেন। বিভিন্ন মসজিদ ও ইদগাহে গিয়ে তাঁরা সকলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন। সংখ্যায় কম হলেও অন্য দলের নেতা নেত্রীরাও একই পথে হেঁটেছেন। সকালে থেকেই খড়্গপুর মহকুমার (Kharagpur Subdivision) রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছেন। কথা বলেছেন মহল্লাদারদের সঙ্গে। মসজিদে গিয়ে ইমামদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ সেরেছেন।
নারায়ণগড়ের তৃণমূল প্রার্থী প্রতিভারানি মাইতি কসবা এলাকায় গিয়ে ফুল, মিষ্টি তুলে দেন কয়েক জনের হাতে। খড়গপুর সদরের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার বিভিন্ন মহল্লায় গিয়ে বাচ্চাদের চকলেট দেন। একই ভাবে পিংলা, দাঁতন, সবং, ডেবরা বিধানসভাতেও ইদ উপলক্ষে মুসলিম এলাকায় গিয়ে প্রার্থীদের জনসংযোগ সারতে দেখা গিয়েছে। গোপীবল্লভপুরের তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতো আসনবনি ও জাহানপুরে গিয়ে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ফুল, মিষ্টি তুলে দেন মসজিদের মৌলবিদের হাতে। ঝাড়গ্রামের তৃণমূলের প্রার্থী মঙ্গল সোরেন সকালে চলে গিয়েছিলেন পুরাতন ঝাড়গ্রামের ইদগাহে। সেখানে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরে মসজিদে গিয়ে কর্তৃপক্ষের হাতে ফুল ও মিষ্টি তুলে দেন।
মঙ্গল বলছেন, 'ইদের মতো একটি বড় উৎসবে সামিল হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। এটা একেবারেই সৌজন্য সাক্ষাৎ, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে যাইনি।' ঘাটাল ও চন্দ্রকোণার তৃণমু ধাগা শ্যামলী মান্না ও সূর্যকান্ত দৌ এলাকার মসজিদে গিয়ে ভে) বিনিময় করেন। দাসপুরের পিএম প্রার্থী রণজিৎ পাল ও তৃণমূৎ প্রার্থী আশিস হুদাইত সকালে উত্তরপাড় ইদগাহে পৌঁছে যান। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীও একে অন্যের সঙ্গে করমর্দন করে সৌজন্যের বার্তা দেন। রণজিৎ ও আশিস বলেছেন, 'আমরা প্রথমে মানুষ। পরে রাজনীতিবিদ। দাসপুরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বিভেদ-বিভাজনের নয়। আমরা সবাই বেঁধে বেঁধেই থাকি। এ ভাবেই থাকব।' নমাজ শেষে এক ইমাম বলছিলেন, 'এই সৌজন্য খুব ভালো লাগল। এটাই তো কাম্য। লড়াই হোক ইভিএমে, অটুট থাক সৌজন্য।'
মেদিনীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা সকালেই মির্জাবাজার শাহি ইদগাহে পৌঁছন। নমাজ শেষে বেরিয়ে আসা লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। খড়াপুরের তৃণমূল প্রার্থী দীনেন রায় সতকুই, হোসনাবাদ, কলাইকুণ্ডা, রামনগর, হাতিহলকা-সহ একাধিক এলাকায় গিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং উৎসবে সামিল হন। কেশপুরের তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা ইদের দিন এলাকায় না থাকলেও আগের দিন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের তৃণমূল প্রার্থী দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়, নন্দকুমারের তৃণমূল প্রার্থী সুকুমার দে-সহ তৃণমূল ও বিজেপি একাধিক আগা দিন ইদের পরবে সামিল হয়েছিল ন। ময়নার বিজেপি প্রার্থী আশাক দিন্দা সকালে তমলুকের এলাকায় গিয়ে স্থানীয় সংসদের ইদের শুভেচ্ছা জানান। তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডলও তমলুকের অনন্তপুর ও চনশ্বরপুর এলাকায় গিয়ে জনসংযোগের পাশাপাশি ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।