• সমাজবিজ্ঞানে গবেষণা, ভোট-যুদ্ধে নবাগতা! কৃষ্ণনগর দক্ষিণের আকাশে কাস্তে-হাতুড়ি ‘আঁকতে’ পারবেন লাবণী?
    এই সময় | ২২ মার্চ ২০২৬
  • বামফ্রন্টের সমর্থনে রাজ্যে ১০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে সিপিআইএম (লিবারেশন)। সেই তালিকায় রয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণ আসন। বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবন নিয়ে গবেষণা করা লাবণী জঙ্গিকে এই আসন থেকে প্রার্থী করেছে সিপিআইএমএল। রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে বামপন্থী প্রার্থী।

    কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ধুবুলিয়ার বাসিন্দা লাবণী ছোটবেলা থেকেই বামপন্থী আদর্শে বেড়ে উঠেছেন। বাবা লিয়াকত আলি দীর্ঘদিনের বাম নেতা হওয়ায় রাজনৈতিক চেতনা তাঁর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তুলনামূলক ভাবে তরুণ এই প্রার্থী নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার জোরে ইতিমধ্যেই ভোটারদের একাংশের নজর কেড়েছেন। লাবণীর জীবনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর শিল্পচর্চা। ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তাঁর। নিজের আঁকা বিভিন্ন ছবিতে সমাজ চেতনা, রাজনৈতিক প্রতিবাদের ছাপ স্পষ্ট ভাবে ফুটে ওঠে।

    কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর হন। পরবর্তীতে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্স, কলকাতা থেকে সমাজবিজ্ঞানে এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল, বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবন ও তাঁদের সমস্যাবলী।

    ‘তৃণমূল কংগ্রেস ভয় দেখাচ্ছে মুসলমানদের, বিজেপি চলে আসলে তাদের ক্ষতি হবে। অন্য দিকে, বিজেপি ভয় দেখাচ্ছে হিন্দুদের, সব রোহিঙ্গা-বাংলাদেশিরা অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে এগুলো মানুষ বোঝে।’

    লাবণী জঙ্গি

    উল্লেখ্য, গত কয়েকমাসে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে ভিন রাজ্যে অত্যাচারের নানা খবর উঠে এসেছে। একই সঙ্গে উঠে এসেছে ধর্মীয় ভেদাভেদের কথাও। এই চক্রব্যূহের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল কী? লাবণী বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ভয় দেখাচ্ছে মুসলমানদের, বিজেপি চলে আসলে তাদের ক্ষতি হবে। অন্য দিকে, বিজেপি ভয় দেখাচ্ছে হিন্দুদের, সব রোহিঙ্গা-বাংলাদেশিরা অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে এগুলো মানুষ বোঝে। মানুষ খুবই বুদ্ধিমান। তাঁদের কিছু সময়ের জন্য বোকা বানানো যায়, ক্ষমতা দিয়ে বুথ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’

    এ বারের নির্বাচনে প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে SIR-এর ইস্যুও। লাবণীর কথায়, ‘বিজেপি সরকার বলতে চেয়েছে, SIR-এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা-বাংলাদেশিদের বাদ দেওয়া হবে। পরে যেটা হলো, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে দেওয়া হলো। হিন্দু মানুষের নাম যাচ্ছে। বিজেপি ২০১৯ সাল থেকে বলত, হিন্দুরা এ দেশে নিরাপদ, কোনও চিন্তা নেই। এখন উদ্বাস্তু, মুসলিম, হিন্দু সকলকেই প্রমাণ দিতে হচ্ছে যে আমি নাগরিক। এটা খুবই অমানবিক। এটা আসলে ক্ষমতা ব্যবহার করে মানুষকে অপদস্থ করা।’

    একদিকে বিজেপিশাসিত রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে মারধর-হেনস্থা, অন্য দিকে রাজ্য সরকার অসংগঠিত শ্রমিক, বেকারদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করলেও কর্মসংস্থানের দিশা দেখাতে অপারগ— এমনটাই মত লাবণীর। তাঁর কথায়, ‘আমার ভাতা নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কেন কেবল ভাতা দিতে হচ্ছে, কেন চাকরি দেওয়া যাচ্ছে না?’ একটা সরকার ভাতা দিচ্ছে বলেই, সাধারণ মানুষ তাদের দুর্নীতি বা অপরাধকে মেনে নেবে না— মানুষের প্রতি এই আশা নিয়েই নির্বাচনে বিপক্ষদের টক্কর দেওয়ার আশা জিইয়ে রাখছেন কৃষ্ণনগর দক্ষিণ আসনের বাম প্রার্থী।

    উল্লেখ্য, লাবণীর বিরুদ্ধে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী তিনবারের জয়ী ও রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং বিজেপির সাধনা ঘোষ। গতবার এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮ হাজার ভোটে জিতেছিলেন উজ্জ্বল বিশ্বাস।  সিপিআইএমএল প্রার্থীকে নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ও এই কেন্দ্রের প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, ‘লড়াই এর ময়দানে সকলের যোগদান করার অধিকার রয়েছে। এর আগেও বাম প্রার্থীরা শেষরক্ষা করতে পারেননি। সেই তৃতীয় স্থান অধিকার করতে হয়েছিল। এবারেও এর কোন প্রভাব ঘটবে তেমন কোন আশা বা লক্ষণ দেখছি না।’

  • Link to this news (এই সময়)