পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রবিবার সন্ধ্যায় এই কেন্দ্রের কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তৃণমূল সূত্রে খবর, কলকাতার আসনগুলির মধ্যে থেকে এই আসন থেকেই সবথেকে বেশি মার্জিনে জয়ের টার্গেট দেওয়া হয়েছে কর্মীদের।
এ দিন চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে বিধানসভার সমস্ত কাউন্সিলার এবং বুথকর্মীকে নিয়ে বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, অভিষেক এ দিন মিটিংয়ে বলেন, ‘কলকাতার মধ্যে ফার্স্ট হতে হবে ভবানীপুরকে। ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জিততে হবে।’ বিপক্ষে যেই লড়ুক না কেন, কর্মীরা যেন অন্যান্য বছরের ন্যায় সমান আবেগ ও শক্তি কাজে লাগিয়ে লড়াই করেন, সেই বার্তা দেওয়া হয় এ দিনের বৈঠক থেকে।
অন্য দিকে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের উপদেশ দেন, মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে। এই কেন্দ্রে বহিরাগতদের আনা হয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মমতা। তবে শান্তিপূর্ণ ভাবে লড়াই করতে হবে, কোনও প্ররোচনায় যেন কোনও কর্মী পা না দেয়, তা পরিষ্কার করে দেন মমতা।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে প্রথমে নন্দীগ্রাম আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন কিছু সংবাদমাধ্যমে দেখানো হয়, মমতা জয়ী হয়েছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পরে গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং হয়ে যায়। এর পরে ফল বদলে যায়। শেষমেশ এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্রের ভোট ও গণনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। এ দিনের মিটিংয়ে ফের লোডশেডিং-এর আশঙ্কার কথা জানান মমতা। স্ট্রং রুমে বিশেষ ভাবে নজরে রাখার জন্য কর্মীদের নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।