• জলের কারখানাই শুষে নিচ্ছে জল, বিপদের মুখে পলাশভূমি
    এই সময় | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • প্রশান্ত পাল, পুরুলিয়া

    বিধি ভেঙে নির্বিচারে মাটির নীচ থেকে তোলা হচ্ছে জল, এমনই অভিযোগে সরব হয়েছে পুরুলিয়ার (PURULIA) একটি বিজ্ঞান সংগঠন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শুষ্ক পুরুলিয়ার মাটির তলা থেকে এ ভাবে জল তোলা চলতে থাকলে অচিরেই বাংলার প্রান্তিক এই জেলা তীব্র জলসঙ্কটের (Water Crisis) মুখে পড়বে। সেই সঙ্গে জল ও মাটিতে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবে ফ্লোরাইড আয়নের পরিমাণ।

    পুরুলিয়ার জলসঙ্কট নিয়ে অনেক দিন ধরেই কাজ করছে জেলার বিজ্ঞান সংগঠন ব্রেক থ্রু সায়েন্স সোসাইটি। সংগঠনের সহ–সভাপতি স্বদেশপ্রিয় মাহাতোর অভিযোগ, ‘গোটা জেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো বোতলবন্দি পানীয় জলের কারখানা গড়ে উঠেছে। বেশিভাগই বেআইনি।’ তিনি এই সঙ্গেই জানিয়েছেন, রঘুনাথপুর-১ ব্লকের বাবুগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গড়ে উঠেছে এরকম একটি কারখানা। সেই কারখানা সংলগ্ন জনপদে আচমকা জলস্তর নেমে গেলে এই বিষয়টি সামনে আসে।

    স্বদেশপ্রিয় বলেছেন, ‘তথ্য জানার অধিকার আইনে আমরা সুইড–এর (স্টেট ওয়াটার ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) কাছে জানতে চেয়েছিলাম, পুরুলিয়ায় বোতলবন্দি পানীয় জলের বিধিসম্মত কারখানার সংখ্যা কত। সুইড জানিয়েছে, জেলায় না কি এরকম কারখানার সংখ্যা মাত্র ২০! অথচ আসলে সেই সংখ্যা এর তিন গুণেরও বেশি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘সরকারি তথ্য অনুসারে বাবুগ্রামের কারখানাটির বৈধতাই নেই। তা হলে কী ভাবে এই কারখানাটি গড়ে উঠল আর কী ভাবেই বা কারখানাটি প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার জল মাটির নিচ থেকে তুলে নিচ্ছে!’

    রঘুনাথপুর শহর লাগোয়া বাবুগ্রামের ক্ষুদিরাম পল্লিতে এই কারখানাটি কিছু দিন আগে চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার বাসিন্দা মৌটুসী চন্দ, দীপা দত্ত, সুপর্ণা মল্লিকদের অভিযোগ, ‘আমাদের এলাকায় জলের এই কারখানা চালু হওয়ার পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছে। জলের স্তর অস্বাভাবিক নেমে যাওয়ায় এখন আর ট্যাঙ্ক ভরছে না। স্থানীয় পঞ্চায়েতে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি আমরা।’

    এ বিষয়ে বাবুগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোমনাথ নন্দীর বক্তব্য, ‘ওই কারখানার কর্তৃপক্ষকে বৈধ নথি নিয়ে দেখা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ পঞ্চায়েতে আসেননি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’ প্রধান আরও জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতের অনুমতি নিয়ে যখন ওই জায়গায় ঘর তৈরি করা হয়েছে, তখন জলের কারখানার কথা বলা হয়নি। পরে সেই কারখানা বানানো হয়েছে পঞ্চায়েতের ছাড়পত্র ছাড়াই।’ সুইড–এর এক আধিকারিক বলেছেন, ‘এই কারখানাটি সম্পর্কে অভিযোগ আসায় প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আনা হয়েছে।’ তবে কারখানার মালিক বিধান পালের দাবি, ‘কারখানা বিধি মেনেই চালু হয়েছে। আমার হাত ভেঙে যাওয়ায় পঞ্চায়েতে যেতে পারিনি।’ পুরুলিয়া সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ বেরা বলেছেন, পুরুলিয়ায় এমনিতেই চাষের জন্য মাটির নীচ থেকে যথেচ্ছ জল তোলা হচ্ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেআইনি পানীয় জলের কারখানাগুলি। এ ভাবে নির্বিচারে জল তোলা হলে মাটি ও জলের মধ্যে ফ্লোরাইড আয়নের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যও নষ্ট হয়ে যাবে।’

  • Link to this news (এই সময়)