এই সময়, আলিপুরদুয়ার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) ব্রিগেডের সভা থেকে বাড়ি ফেরার সময়ে ভুল ট্রেনে উঠে বিহারের কিষাণগঞ্জে (Kishangunj) চলে গিয়েছিলেন এক যুবক। সেখানে ছেলেধরা সন্দেহে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিষাণগঞ্জের পোঠিয়া থানার পুলিশ ও এক হোটেল মালিকের সহযোগিতায় অনেক কষ্টে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরেছেন সোমনাথ বর্মন নামে ওই বিজেপি কর্মী। রবিবার আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকের বারুইপাড়ার বাড়ি থেকে কামাখ্যাগুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাঁকে নিয়ে যায় পরিবার। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা। তাঁকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। কিন্তু বিহারের ওই ‘দুঃস্বপ্ন’ এখনও তাড়া করে ফিরছে পেশায় শ্রমজীবী ওই যুবককে।
১৪ মার্চ কলকাতায় মোদীর সভা শেষে হাওড়া স্টেশনের ১১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছন তিনি। পরিচিতদের সঙ্গে গল্পও করেন। তার পরে সিগারেটের খোঁজে স্টেশনের বাইরে যান। কিছুক্ষণ ঘুরেফিরে এসে সঙ্গীদের দেখতে না পেয়ে ট্রেনে উঠে পড়েন। নির্দিষ্ট ট্রেনের পরিবর্তে ভুল ট্রেনে যে চেপেছেন তখনও বুঝতে পারেননি তিনি। সম্বিত ফিরতে বিহারের কিষাণগঞ্জ স্টেশনে নেমে পড়েন। অপরিচিত জায়গায় নেমে ইতিউতি ঘুরে বেড়াতে দেখে সন্দেহ হওয়ায় কয়েক জন তাঁকে ঘিরে ধরেন। কোথা থেকে এসেছে, জানতে চায়। বাংলায় উত্তর দেন সোমনাথ। ভাষা বুঝতে না পারায় ছেলেধরা সন্দেহে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
মারের চোটে সোমনাথের সারা শরীরে কালসিটে দাগ পড়ে গিয়েছে। সোমনাথ বলেন, ‘জীবনে যে বেঁচে আছি, তা বিশ্বাসই করতে পারছি না। পরিচয় দেওয়ার পরেও ওরা আমাকে ছাড় দেয়নি। শেষে কয়েকজন সহৃদয় পুলিশকর্মীর সহায়তায় রক্ষা পেয়েছি।’ কুমারগ্রামের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ বলেন, ‘সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির জন্য ওই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। আমরা সোমনাথ বর্মনের পাশে রয়েছি।’ কামাখ্যাগুড়ি–২ অঞ্চলের তৃণমূল নেতা শিবু রায় বলেন, ‘আমরা ওঁকে কামাখ্যাগুড়ি ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। ঠিকমত হাঁটতে পারছে না। চিকিৎসকরা ওঁকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে রেফার করেছেন।’ কুমারগ্রামের বিজেপি নেতা বিপ্লব দাস বলেন, ‘এই ঘটনায় তৃনমূল ইন্ধন দিচ্ছে।’ সোমনাথের মা বিমলাশ্বরী বলেন, ‘ছেলেকে ফেলে চলে এসেছিল ওর সঙ্গীরা। ভুল ট্রেনে ওঠায় বিপদে পড়েছিল।’