গ্যাসের সংকটের জের, একাধিক প্লান্টে সার উৎপাদন কমে অর্ধেক, কাঁচামাল নিয়ে চিন্তায় শিল্পমহল
বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। হরমুজ প্রণালীতে অস্থির থাকায় দেশে গ্যাস ও জ্বালানি আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটেছে। দেখা দিয়েছে এলএনজি সংকট। এর ফলে সমস্যার মুখে পড়েছে দেশের সার উৎপাদন শিল্প। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বর্তমানে একাধিক ইউরিয়া প্লান্ট অর্ধেক কার্যক্ষমতার অর্ধেক কাজ করছে। ফলে কমে গিয়েছে দৈনিক সার উৎপাদন। এই অবস্থায় খরিফ মরসুমের আগে সারের পর্যাপ্ত জোগান নিয়ে চিন্তায় কৃষক মহল। অন্যদিকে, যুদ্ধের জেরে জলপথে কাঁচা মাল সহ বিভিন্ন সামগ্রীর আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। এর জেরে বড়োসড়ো ধাক্কা খেয়েছে একাধিক ভারতীয় কোম্পানি।
হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ এলএনজি দেশে আসতে পারছে না। এই পরিস্থিতি সার উৎপাদন কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমাতে বাধ্য হয়েছে ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন সহ বিভিন্ন সংস্থা। সার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই কমে গিয়েছে। এখন স্বাভাবিকের তুলনায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।’ গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে সার উৎপাদনে। জানা গিয়েছে, বেশকিছু প্লান্টে ইউরিয়া উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯ মার্চ ভারতে ৬১ লক্ষ টনের বেশি ইউরিয়া মজুত ছিল। যা গত বছরের তুলনায় ৬ লক্ষ টন বেশি। তবে গ্যাসের সংকটে সার উৎপাদন কমতে থাকলে সমস্যার মুখে পড়বে কৃষি ক্ষেত্র। এখানেই শেষ নয়। এলএনজি সরবরাহে ব্যাঘাতের জেরে ইউরিয়া প্লান্টগুলিতে অনেক বেশি জ্বালানি খরচ হচ্ছে। বেশকিছু প্লান্টে খরচের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক প্লান্ট ম্যানেজারের কথায়, ‘সার উৎপাদনের তুলনায় জ্বালানি অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পণ্য ও কাঁচা মাল আমদানি সহ একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে ভারতীয় কোম্পানিগুলি। রবিবার এমনটাই জানিয়েছে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। বিবৃতি দিয়ে সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের ফলে একাধিক জলপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে উৎপাদন শিল্পে। ধাক্কা খেয়েছে আমদানি এবং রপ্তানিও।’