• বিগত তিন বছরে এই প্রথম, কুকি-জো গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর
    বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ইম্ফল: তিন বছর ধরে জাতি হিংসার আগুনে পুড়ছে মণিপুর। প্রাণ গিয়েছে আড়াইশোর বেশি মানুষের। ভিটেছাড়া ৬০ হাজারের বেশি। গোষ্ঠী সংঘর্ষ আঘাত হেনেছে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থাতেও। এবার সেই ক্ষত মেরামতে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ। পারস্পরিক সম্পর্কের শীতলতা কাটাতে শনিবার তিনি বৈঠকে বসেছিলেন কুকি-জো গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে। তাঁর এই উদ্যোগকে কুকি-জো ও মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিস্থাপনের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

    রবিবার এব্যাপারে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে কুকি-জো কাউন্সিল। তারা জানিয়েছে, গুয়াহাটিতে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৩ মে হিংসা শুরুর পর এই প্রথম সরকারের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা হল। তাতে পারস্পরিক আস্থা অর্জনের চেষ্টা হয়েছে। বৈঠকে গোষ্ঠীর নেতারা বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। কাউন্সিল জানিয়েছে, অবিলম্বে কুকি ও তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে হবে। পাশাপাশি, হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দরকার। এরকম আরও বেশ কিছু দাবিদাওয়া তুলে ধরা হয়। শান্তিপ্রক্রিয়ায় ক্ষেত্রে এগুলি প্রাথমিক শর্ত বলে উল্লেখ করেছেন কুকি-জো কাউন্সিলের নেতারা।  এদিন ইম্ফলের ইন্টার-স্টেট বাস টার্মিনাসের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা-বিশ্বাস তৈরির প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। এখানে কেউ কোনো দাবি তোলেনি। কোনো প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়নি। তবে শান্তি ফেরাতে সবপক্ষকে সক্রিয় হওয়ায় হওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে ফের বৈঠক ডাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। খেমচাঁদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাত্র একটি বৈঠক করে মণিপুরে শান্তি ফেরানো সম্ভব নয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। তবে অবিশ্বাসের বাতাবরণ অনেকটাই কমেছে। এটা খুবই ইতিবাচক ব্যাপার।  তিনি জানিয়েছেন, বহু মানুষ ঘরছাড়া। তাদের ঘরে ফেরাতে হবে। তার আগে বিশ্বাস-আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ, কতদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী পাহারা দেবে?  মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: পিটিআই
  • Link to this news (বর্তমান)