টিকিটের দামে সর্বোচ্চ সীমা প্রত্যাহার কেন্দ্রের, আজ থেকে বিমান ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা
বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জের। আজ, সোমবার থেকেই ভারতে বৃদ্ধি পেতে পারে বিমান ভাড়া। গত ডিসেম্বর থেকে ঘরোয়া বিমান ভাড়ায় ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিয়েছিল মোদি সরকার। সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে মোদি সরকার। বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘কঠিন পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির উপর নজর রাখা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে ফের টিকিটের দামে ঊর্ধ্বসীমা বেধে দেওয়া হতে পারে।’ সোমবার থেকেই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধের জেরে ইতিমধ্যে জ্বালানি সারচার্জ বসিয়েছে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া সহ একাধিক বিমান সংস্থা। জ্বালানি সংকটের জেরে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) দাম বাড়ছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকেই বিমান ভাড়ার উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডু। তাঁর কথায়, ‘প্রতি মাসের প্রথম দিনেই এটিএফের দাম নির্ধারণ করা হয়। তাই ১ এপ্রিল থেকে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সমস্যার সমাধান করতে হলে অসামরিক বিমান পরিবহণ, পেট্রলিয়াম, বিদেশ মন্ত্রক সহ বিভিন্ন দপ্তরকে একসঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। যাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেব। তবে প্রভাব নিশ্চিতভাবে পড়বে।’ এই পরিস্থিতিতে টিকিটের দামে ঊর্ধ্বসীমা উঠে যাওয়ায় ভাড়া আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গত বছর ইন্ডিগোর পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ফলে আকাশছোঁয়া হয়ে পড়েছিল টিকিটের দাম। এই অবস্থায় অন্তর্দেশীয় পরিষেবায় বিমানভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা সাময়িকভাবে বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্র। গন্তব্যের ভিত্তিতে প্রতি টিকিটের ভাড়া ১৮ হাজার টাকার মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। বাড়ছে ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেলের দাম। ইতিমধ্যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স। সংগঠনের দাবি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিমান সংস্থাগুলি। এই অবস্থায় কেন্দ্রের কাছে টিকিটের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহারের আরজি জানিয়েছিল তারা।