‘চাহিদা মেনেই কাজ’ বলছে তৃণমূল, অনিশ্চিত রেলপ্রকল্প শুরুর প্রতিশ্রুতি বিজেপির
বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ক্যানিং থেকে ঝড়খালি রেললাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েও বহু বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। মাতলা নদীর উপর কয়েকটি পিলার তৈরির পর কাজ আর এগয়নি। এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। বিধানসভা নির্বাচনে বাসন্তীতে প্রার্থী হয়ে ক্যানিং-ঝড়খালি রেলপ্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন বিকাশ সরদার। তৃণমূল প্রার্থী নীলিমা মিস্ত্রি বিশাল পাল্টা বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে। এতদিন এই প্রকল্প করল না কেন? মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বিজেপি প্রার্থী।’
এলাকার অধিকাংশ মানুষের বক্তব্য, এই প্রকল্প নিয়ে রেলমন্ত্রক কোনো উচ্চবাচ্য করছে না। অথচ বিজেপির প্রার্থী আশ্বাস দিচ্ছেন। এভাবে ভোট বৈতরণী পার করার চেষ্টা খুব একটা কাজে দেবে কি? বিজেপির প্রার্থী বিকাশ সরদার প্রচারে বেরিয়ে বলছেন, ‘জিতে এলে ছ’মাসের মধ্যে ক্যানিং থেকে ঝড়খালি রেললাইনের সম্প্রসারণ করা হবে। মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করব। আমি নিজে এই উদ্যোগ নেব।’ তবে বিজেপির প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে বাসন্তীর ভোটারদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। আবদুল গাজি নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘সুন্দরবনে রেললাইন যোগাযোগ খুব দরকার। কিন্তু ক্যানিংয়ের পর লাইন পৌঁছয়নি। কতজন এলেন গেলেন কিন্তু কেউ কিছু করলেন না।’ রহিমা বিবির নামে আর এক বাসিন্দার কথায়, ‘আগে করে দেখাক, তারপর নয় বলবে।’ এটি ছাড়াও বিজেপি স্থানীয় কিছু ইস্যুকে ধরে প্রচার করছে। সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষদের জন্য কোন কাজ করলে ভালো হবে তা উঠে আসছে প্রার্থীর মুখে। তিনি বাসন্তীতে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, কৃষকদের সুবিধার জন্য হিমঘর এবং ট্যুরিজম হাব করার কথা বলছেন। তৃণমূল প্রার্থী নিলীমা মিস্ত্রির বক্তব্য, ‘প্রচারে বেরিয়ে মানুষ যা চাইবে ভোট মিটে গেলে সেগুলিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’ এই আসনে তৃণমূল ও বিজেপি প্রচারে নেমে পড়লেও প্রার্থী নিয়ে জট অব্যাহত বামফ্রন্টে। এই আসনে আরএসপি না আইএসএফ কে প্রার্থী দেবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। -নিজস্ব চিত্র