• দিনরাত কাজ করেও অভাব মেটে না ডোমপাড়ার চালচিত্র শিল্পীদের
    বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী সপ্তাহে অন্নপূর্ণা পুজো। সে কারণে উত্তর কলকাতার রামবাগানের ডোমপাড়ায় প্রতিমার চালচিত্র তৈরির ব্যস্ততা চলছে। শিল্পীরা দিনরাত কাজে মগ্ন। মঙ্গলবার দুপুরে রমেশ দত্ত স্ট্রিট, আদিত্য মল্লিক লেনে বাঁশের কঞ্চিতে আঠা দিয়ে কাগজ সাঁটার কাজ চলছিল। তার উপর রং‑বেরংয়ের কাগজ ও শোলা দিয়ে সাজানো হবে চালচিত্র। সেগুলি শোভা পাবে অন্নপূর্ণার মূর্তির পিছনে। 

    ডোমপাড়ায় তুমুল ব্যস্ত শিল্পী পূজা সাঁতরা, মালতি সাহা, অঞ্জু কুণ্ডুরা। পূজাদেবী বলেন, ‘একটি চালচিত্র তৈরি করে ৩০০ টাকা মজুরি পাই। দিনে দু’টোর বেশি তৈরি করা যায় না। পুজো এলে আমাদের মন ভালো থাকে। কারণ তখন কাজ বেশি। ফলে বেশি টাকা রোজগার।’ মালতিদেবী বলেন, ‘আমাদের মজুরি অল্প। তবুও বাধ্য হয়ে এ কাজ করি। আমাদের সংসারে অভাব। রোজগার না করলে খাব কি?’ কঞ্চির কাঠামোয় কাগজ সাঁটতে সাঁটতে অঞ্জুদেবী বলেন, ‘এত কাজ করি তবুও আমাদের ঘরের অন্ধকার দূর হয় না। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। প্রতিদিন কাজ পাওয়ার জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকি।’ স্বপ্নাদেবী বলেন, ‘যখন দেখি আমাদের হাতে তৈরি চালচিত্র মূর্তির পিছনে থাকছে। পুজো হচ্ছে। তখন ভালো লাগে। আমাদের বাড়িতে পুজো হয় না। কারণ আমাদের টাকা নেই।’

    ডোমপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা গিয়েছে, কোথাও তৈরি হচ্ছে অন্নপূর্ণার বিশাল চালচিত্র। কোথাও আবার মূর্তির দু’ধারে থাকা সাজ সরঞ্জাম হচ্ছে। 

    শিল্পীরা বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ পর্যন্ত কাজ চলবে। ঘট, ডাব, আম শাখা, গেট প্রভৃতি তৈরি করার বরাত পেয়েছি। এসব কাজ সময় মতো তুলে দেওয়াটা বড়ো চ্যালেঞ্জ।’ তাঁদের আক্ষেপ, বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়েছে। কিন্তু তাঁদের মজুরি কিছুতেই বাড়ছে না। ফলে অভাবও কাটছে না।
  • Link to this news (বর্তমান)