ফিট না থাকলেই চাকরি থেকে ছাঁটাই! কেবিন ক্রদের জন্য কঠোর নীতি জারি এয়ার ইন্ডিয়ার
বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
নয়াদিল্লি, ২২ মার্চ: শরীর ফিট না থাকলেই যেতে পারে চাকরি। আর চাকরি বাঁচাতে গেলে মানতে হবে কঠিন মানদন্ড। এবার কঠোর স্বাস্থ্য ও ফিটনেস নীতি চালু করার পথে এয়ার ইন্ডিয়া। জানানো হয়েছে আগামী ১ মে, ২০২৬ থেকেই কার্যকর হবে এই নতুন নিয়ম। আর তাতেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। সংস্থার নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও কেবিন ক্রু নির্ধারিত ওজনের সীমা ছাড়ালেই বা শারীরিকভাবে অযোগ্য প্রমাণিত হলেই তাঁকে ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। শুধু তাই নয়, বারবার সতর্ক করার পরেও ওজন না কমলে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ, এমনকি বেতন কাটার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারে কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, হঠাৎ করে করা হবে ওজন পরীক্ষা। বিমানে ওঠার আগে, নামার পরে, এমনকি ট্রেনিং চলাকালীনও হতে পারে এই সারপ্রাইজ চেক। উচ্চতা অনুযায়ী ওজনের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে সঙ্গে সঙ্গেই ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে। যাঁদের বিএমআই ৩০ এর বেশি অর্থাৎ স্থূলতার পর্যায়ে পড়েন তাঁদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর। মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে ওজন কমানোর নির্দেশ। এই সময়সীমার মধ্যে লক্ষ্য পূরণ না হলেই তাঁকে পাঠানো হবে সতর্কবার্তা, আর শেষ পর্যন্ত ব্যার্থ হলে যেতে পারে চাকরিও। এমনকি, জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতাও এবার কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। পরীক্ষায় পাশ করার সুযোগ থাকবে মাত্র তিনবার। ব্যর্থ হলে কেবিন ক্রু হিসেবে কাজের দরজা চিরতরে বন্ধ।
এয়ার ইন্ডিয়ার মতে, 'কেবিন ক্রুরাই সংস্থার মুখ, তাঁরাই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তাই তাঁদের হতে হবে ফিট এবং সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত'। এই নীতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বিএমআই মানদণ্ডকে।
তবে শুধুই কড়াকড়ি নয়, কিছুটা সহায়তার হাতও বাড়িয়েছে সংস্থা। কর্মীদের জন্য চালু হয়েছে বিশেষ ডায়েট প্ল্যান, ব্যায়াম প্রোগ্রাম এবং মানসিক সুস্থতা উন্নয়নের উদ্যোগ।