• ৬ শীর্ষ আধিকারিককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল রেল, তীব্র প্রতিবাদ
    বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পারফরম্যান্স নেই। কর্মকুশলতা কার্যত নেমে এসেছে শূন্যে। এই পরিস্থিতিতে ছ’জন শীর্ষ আধিকারিককে বাধ্যতামূলক অবসরে (কম্পালসরি রিটায়ারমেন্ট) পাঠাল রেলমন্ত্রক। এই তালিকায় রয়েছেন রেলের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার থেকে এমনকি অধিকর্তা স্তরের আধিকারিক। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, রেলের সমস্ত জোনেই কর্মী, আধিকারিকদের পারফরম্যান্স রিভিউয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বোর্ড। এবং এসংক্রান্ত প্রত্যেক পদক্ষেপের নিয়মিত আপডেট দিতে হচ্ছে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে। ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে রেলের বিভিন্ন কর্মী সংগঠন। তাদের প্রশ্ন, কর্মকুশলতা না থাকার অভিযোগে কর্মী, আধিকারিকদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে আদতে কি ঘুরপথে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ প্রশস্ত করতে চাইছে রেলমন্ত্রক? এই ইস্যুতে প্রয়োজনে বড়োসড়ো আন্দোলনের পথে হাঁটা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে রেলের কর্মী সংগঠনগুলি। 

    রেল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছ’জন আধিকারিককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেইমতোই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে এস্ট্যাবলিশমেন্ট কোড’ (আইআরইসি) ভলিউম টু’য়ের ১৮০২ (এ) নং ধারা মেনে রেল কর্তৃপক্ষ ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট’-এ যেকোনো কর্মী, আধিকারিককে বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারে। সরকারি সূত্রে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, রেলের কাজকর্মের পুরোটাই ‘পাবলিক ইন্টারেস্টে’র সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এর ফলে কোনো কর্মী কিংবা আধিকারিক যদি ঠিকমতো কাজ না করেন, তাহলে তার জেরে সরাসরি সাধারণ মানুষ প্রভাবিত হতে পারেন। যদিও সংশ্লিষ্ট ধারার অপব্যবহার হচ্ছে বলেই রেলের কর্মী সংগঠনগুলির অভিযোগ। 

    বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করে রেল তার সমস্ত কর্মী, আধিকারিকের উদ্দেশে জানিয়েছে, প্রত্যেকেই যেন এহেন ঘটনাক্রম থেকে সচেতন হন। নির্ধারিত ‘সার্ভিস স্ট্যান্ডার্ডস’ যাঁরা পূরণ করতে পারবেন না, রেল কর্তৃপক্ষ এবার থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে। 

    এদিকে, রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুক্রবার আধিকারিকদের সঙ্গে নয়াদিল্লির রেলভবনে বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এবার থেকে স্টেশনের প্রত্যেক রেল কর্মী এবং রেলের আওতাভুক্ত ঠিকাদার কর্মচারীদের কালার-কোডেড জ্যাকেট দেওয়া হবে। রেল কর্মীরা পাবেন ফ্লুরোসেন্ট জ্যাকেট। পাশাপাশি স্টেশন চত্বরে কর্মরত প্রত্যেককেই দেওয়া হবে সচিত্র পরিচয়পত্র। স্টেশনের প্রত্যেক কোণায় এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা ইনস্টল করা হবে। নিউদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনেই এহেন পাইলট প্রজেক্ট শুরু হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)