• পাঁচ বছর অন্তর বদলের অঙ্ক এবার মিলবে কি
    বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: রাজ্যের নিরিখে ট্রেন্ডটা একটু আলাদা। বলা ভালো একদম অন্য রকম। গঙ্গারামপুর আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনেই। তিন দফায় আলাদা রাজনৈতিক দলের বিধায়ক দেখেছে এই কেন্দ্র। এবার কি আরেকবার বামেদের পুরনো দুর্গে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সিপিএম? এই প্রশ্ন নিয়ে কম চর্চা হচ্ছে না গঙ্গারামপুরে। এক সময় জেলার বাম রাজনীতির কেন্দ্রস্থল ছিল গঙ্গারামপুর। এখান থেকেই জেলার রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারিত হত। প্রয়াত মন্ত্রী নারায়ণ বিশ্বাস, মিনতি ঘোষ ও মানবেশ চৌধুরীর মতো প্রভাবশালী নেতাদের হাতেই ছিল এই অঞ্চলের নেতৃত্ব। ২০১১ সালের পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন সত্যেন্দ্রনাথ রায়। ২০১৬ সালে জিতেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দাস। ২০২১ সালে দলবদল করে বিজেপির টিকিটে জেতেন সত্যেন্দ্রনাথ রায়। ফলে গঙ্গারামপুরে রাজনৈতিক সমীকরণ প্রায় প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বদলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনশীল ভোট-প্রবণতা এবারের লড়াইকেও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তাহলে কি আবার বাম শিবিরে ফিরবে এই কেন্দ্র? কিন্তু সেই শক্তি কি বামেদের আর আছে? এবার সিপিএম প্রার্থী পেশায় শিক্ষক রাজবংশী মুখ বিপ্লব বর্মন।  আত্মবিশ্বাসী এই শিক্ষকের কথায়, তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়েই দল ঘুরে দাঁড়াবে। ভোটের আগে সংগঠন অনেকটাই মজবুত হয়েছে।শাসক দলের দাবি, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই বামভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে সরে যাওয়ায় গেরুয়া শিবিরের শক্তি বেড়েছে। তব, সিপিএমকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল ও বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের দাবি, গঙ্গারামপুরে আমাদের সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী। আমাদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রেখেছি। এলাকায় বামেদের অস্তিত্ব কার্যত নেই। মানুষ পরিবর্তন চাইছে, তাই বিজেপিই একমাত্র বিকল্প। এবার রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হব। তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দাস বলেন, কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে এখানে জিতেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে কংগ্রেস বা বামফ্রন্টের কোনো সংগঠন নেই। তারা কেবল ভোট কাটার ভূমিকা নেয়। 

    উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ তৃণমূলকেই বেছে নেবে। বিজেপির বিধায়ক কী কাজ করেছেন, তা মানুষ দেখেছে। সিপিএম প্রার্থী বিপ্লবের কথায়, গঙ্গারামপুর আমাদের পুরনো দুর্গ। সবাইকে নিয়েই ঘুরে দাঁড়াব। সংগঠন এখন অনেকটাই শক্তিশালী। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকারত্বের মতো ইস্যুকেই সামনে রেখে লড়াই চালাব।
  • Link to this news (বর্তমান)