• রায়গঞ্জের উন্নয়নে ৫৫০ কোটির কাজ জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কৃষ্ণ
    বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: শুধু প্রতিশ্রুতি নয়। মানুষের প্রত্যাশা পূরণেও সচেষ্ট থাকাই লক্ষ্য। এবারও রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী। বিগত পাঁচ বছর এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে, ওয়াকিবহাল মহলের পর্যালোচনা, কৃষ্ণ রায়গঞ্জের জন্য কিছু কাজ করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন, তা টের পেয়েছেন মানুষ। যার জন্য বিধায়ক তহবিলের সিংহভাগ টাকাই তিনি খরচ করতে পেরেছেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তদ্বির করে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ রায়গঞ্জ বিধানসভায় করিয়েছেন। কাজেই আরো উন্নয়নের লক্ষ্যেই ভোটে লড়বেন তিনি। 

    কৃষ্ণর দাবি, শুধু প্রতিশ্রুতিই নয়, বিধানসভা এলাকার মানুষের জন্য উন্নয়ন করাটাই বিধায়ক হিসেবে আমার কর্তব্য। যা আমি বিগত বছরগুলিতে করেছি। এজন্য মানুষ আমার পক্ষে থাকবে বলে আমি আত্মবিশ্বাসী। 

    ২০২১ সালে প্রথমবার সরাসরি বিজেপির হয়ে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হন শিল্পপতি কৃষ্ণ। কিন্তু জয়ী হলেও বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা নষ্ট হয় মাস ছ’য়েকের মধ্যে। যোগ দেন তৃণমূলে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে সাংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও জিততে পারেননি। অবশেষে ওই বছরই  উপনির্বাচনে রায়গঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। স্থানীয়দের অনেকের বক্তব্য, পেশাদার রাজনীতিবিদ না হলেও বিধায়ক হিসেবে রায়গঞ্জের উন্নতির জন্য প্রচেষ্টা আছে কৃষ্ণের। কারণ, তাঁর হাত ধরেই রায়গঞ্জ শহরের যানজট কমাতে বড়সড় পদক্ষেপ হয়েছে। শহরের পাবলিক বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছে শিলিগুড়ি মোড়ে। যার কাজ পুরোদমে চলছে। তারজন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার অনুমোদন মিলেছে। এছাড়াও বিধায়ক তহবিলের ৪০ লক্ষ টাকা, সুডার টাকাও ওই কাজে ব্যবহার হচ্ছে। 

    তৃণমূল বিধায়ক জানিয়েছেন, শুধু বাসস্ট্যান্ড নয়,বাহিন-ট্যাগড়া ব্রিজ, শ্মশান, গোরস্থান, পানীয় জল, নদী পাড় বাঁধানো, নিকাশিনালা নির্মাণ, গ্রামাঞ্চলে রাস্তা নির্মাণের কাজ হয়েছে। শহরের করোনেশন স্কুলের অডিটোরিয়াম সংস্কার হয়েছে। বিধায়ক কার্যালয় থেকে ১৩ লক্ষের বেশি মানুষকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প পেতে সহায়তা করা সহ বিভিন্ন সহায়তা করা হয়েছে। 

    বিধায়কের দাবি, মোট ৬৭৩টি নতুন রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ১০৯টি বড় রাস্তার জন্য ব্যয় হয়েছে ১৭৮ কোটি টাকা। জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ১৬৩টি নিকাশিনালা তৈরি হয়েছে। যার জন্য ১৭ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। ২.৮ কোটি টাকা খরচে নির্মাণ হয়েছে ট্যাগরা ব্রিজ।  রহমতপুর এলেঙ্গিয়া রাস্তা হয়েছে ৪.৫ কোটি টাকা ব্যয় করে। কাজ শুরু হয়েছে রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ডর। প্রতি কৃষককে ৩০ হাজার টাকার পাইপ, সোলার সিস্টেম এবং উন্নত সেচ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। ছত্রপুরে বৃদ্ধদের জন্য আবাসন তৈরির টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। যা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। শহর ও গ্রামীণ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য আরবান ডেভেলপমেন্ট ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে আরো ২০ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে।

    যদিও বিধায়কের কর্মকাণ্ডে খুশি নয় বিরোধী বিজেপি, সিপিএম। মন্তব্য করতে চায়নি জেলা  কংগ্রেসও। বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজের বক্তব্য, বিধায়ক অনেক  কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু বাস্তবে মানুষ এসবের সুফল পাচ্ছে না। কারণ রায়গঞ্জ শহর বর্ষায় জলে ডুবে থাকে। নিকাশি ব্যবস্থা ভালো নয়। যে রাস্তার পাশে নিকাশিনালার কাজ হয়েছে, তার মান খারাপ। সিপিএমের জেলা সম্পাদক আনওয়ারুল হক বলেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর কাজ করে। সেগুলি নিজের কাজ বলে বিধায়ক দাবি করলে কিছু বলার নেই। বিধায়ক ফান্ড থেকে তিনি কী কাজ করেছেন, তা আমরা সেভাবে কিছু লক্ষ্য করিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)