দুই ফুলের প্রার্থীই দক্ষিণ রামপুরের, চর্চা ভল্কা-বারোবিশায়
বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
বাবুল সরকার, কুমারগ্রাম: কুমারগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজীব তির্কি এবং বিজেপি প্রার্থী মনোজকুমার ওরাওঁ দু’জনই একই গ্রামের বাসিন্দা। রাজীববাবু ভল্কা-বারোবিশা ১ পঞ্চায়েতের দক্ষিণ রামপুর মৌজার ১০১ নম্বর বুথের বাসিন্দা। আর মনোজকুমার ওরাওঁ দক্ষিণ রামপুর মৌজারই ১০৪ নম্বর বুথের বাসিন্দা। একই গ্রামের দুই প্রার্থীর মধ্যে কে জয়ী হবেন, এই নিয়ে জোর চর্চা চলছে গোটা বিধানসভা এলাকায়।
মনোজকুমার ওরাওঁ ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ১১ হাজার ভোটে তৃণমূল প্রার্থী লুইস কুজুরকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। পেশায় হাইস্কুলের শিক্ষক, ৪৬ বছর বয়সি মনোজবাবুকে কুমারগ্রাম কেন্দ্রে ফের প্রার্থী করেছে বিজেপি। তবে তৃণমূল এই কেন্দ্রে নতুন মুখ তুলে এনেছে। কুমারগ্রামে তৃণমূল ভল্কা-বারোবিশা ১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান, বছর ৪২-এর রাজীব তির্কিকে টিকিট দিয়েছে।
বিজেপি বিদায়ী বিধায়ককে প্রার্থী করে এই কেন্দ্র পুনরায় দখল করতে চাইছে। অন্যদিকে, দলের যুবনেতাকে প্রার্থী করে তৃণমূল কুমারগ্রাম কেন্দ্র পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কুমারগ্রামের বিধায়ক ছিলেন তৃণমূলের জেমস কুজুর। তিনি রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীও ছিলেন। এবারের নির্বাচনে কুমারগ্রাম কেন্দ্রে একই গ্রামের দুই প্রার্থীর লড়াই জমজমাট হতে চলছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলের প্রার্থীই নির্বাচনি প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। কুমারগ্রাম কেন্দ্রে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী দুই প্রার্থীই।
তৃণমূল প্রার্থী রাজীব তির্কি বলেন, বিগত পাঁচ বছরে এই কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক উন্নয়নমূলক কোনো কাজই করেননি। মানুষ সব বুঝে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কাজগুলির কথা প্রচারে তুলে ধরছি। প্রচারে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। জয়ী হয়ে কুমারগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন করতে চাই।
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক মনোজকুমার ওরাওঁ বলেন, আমার সীমিত ক্ষমতার মধ্যে বিধানসভার ১৮টি পঞ্চায়েতেই আমি উন্নয়নের কাজ করেছি। সোলার লাইট, পানীয় জল, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে। মানুষ সব জানে। তৃণমূল কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে কুমারগ্রাম কেন্দ্রে ফের বিপুল ভোটে জয়ী হব।