বারলার দলত্যাগের পর ব্লকে নতুন পার্টি অফিস খুলতে পারেনি বিজেপি
বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
উজ্জ্বল রায়, ধূপগুড়ি: প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গেলেও বানারহাট সদরে এখনো নির্বাচনি কার্যলয় খুলতে পারেনি বিজেপি। শুধু তাই নয়, বনারহাট ব্লক নেই দলের স্থায়ী পার্টি অফিসও। রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বানারহাট ব্লকের গুরুত্ব যথেষ্ট। বানারহাট-২ ও চামূর্চি গ্রাম পঞ্চায়েত নাগরাকাটা বিধানসভার অন্তর্গত। অন্যদিকে, বিন্নাগুড়ি ও সাঁকোয়াঝোরা-১ পঞ্চায়েত পড়ে মাদারিহাট বিধানসভায়। এছাড়া বানারহাট-১ এবং শালবাড়ি-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত ধূপগুড়ি বিধানসভা এলাকার অধীনে। ফলে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনি সমীকরণে বানারহাটকে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনিক কেন্দ্র হিসাবে দেখে রাজনৈতিক দলগুলি।
এমন অবস্থায় এলাকায় সেই অর্থে পদ্ম শিবিরের প্রচারই শুরু হল না। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এখনো কর্মীদের ভরসা নেতাদের ব্যক্তিগত বাড়িই। ভোটের মুখে বানারহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই দলের মধ্যেই উঠছে প্রশ্ন। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, খুব শীঘ্রই বানারহাটে নির্বাচনি কার্যালয় চালু করা হবে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদিকা পুনিতা ওরাওঁ পার্টি অফিস না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এক-দুই দিনের মধ্যে আমরা নির্বাচনি কার্যালয় খুলব।
স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জন বারলার উদ্যোগে চামুর্চি মোড়ে থাকা তাঁর ব্যক্তিগত মার্কেট কমপ্লেক্সে ২০২১ সালে বিজেপি একটি স্থায়ী পার্টি অফিস চালু করেছিল। কিন্তু বারলা বিজেপি ছেড়ে যেতেই সেই কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বানারহাট ব্লকে দল কোনো স্থায়ী অফিস বানাতে পারল না।
এই পরিস্থিতিকে বিজেপির সাংগঠনিক ব্যর্থতা বলেই কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি সাগর গুরুংয়ের দাবি, অতীতে একাধিক নির্বাচন হলেও বিজেপি বানারহাটে স্থায়ী পার্টি অফিস গড়ে তুলতে পারেনি। সাধারণ মানুষের সমস্যাতেও তাদের এগিয়ে যেতে দেখা যায় না। যদিও পাল্টা বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সদস্য সন্তোষ প্রসাদের দাবি, বানারহাট থেকে তিনটি বিধানসভা আসনের বিজেপি প্রার্থীকে আমরা লিড দেব।