মালদহে তৃণমূল, বামফ্রন্টের হয়ে ভোটের লড়াইয়ে একাধিক প্রাক্তন ছাত্রনেতা-নেত্রী
বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
সৌম্য দে সরকার, মালদহ: কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় অনেকেরই। ছাত্র বা ছাত্রী রাজনীতিকদের অনেকেই পরবর্তীতে পেশাজীবনে প্রবেশ করে রাজনীতির সংশ্রব ত্যাগ করেন। আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট দল কিংবা আদর্শকে আঁকড়ে রাজনীতিকেই জীবনের পথ করে নেন। বিধানসভা নির্বাচনে মালদহে এবার প্রার্থী হয়েছেন এমন কয়েকজন, যাঁরা রাজনীতির সংস্পর্শে এসেছিলেন ছাত্র অবস্থাতেই। ছাত্র রাজনীতি থেকে সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায় পা রেখে তাঁরা এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে।
ইংলিশবাজারের তৃণমূল প্রার্থী আশিস কুণ্ডুর রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত মালদহ কলেজে ভর্তি হওয়ার পরেই। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে মালদহ কলেজে বিরোধী ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদের হয়ে রাজনীতি শুরু করেন তিনি। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের বিরুদ্ধে ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ব দিয়ে দ্রুত তিনি নজর কাড়েন রাজনৈতিক মহলের। জেলা ছাত্র পরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে খুব অল্প বয়সে পুরসভার কাউন্সিলার হন আশিস। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান পদেও ছিলেন স্বল্প সময়। আশিস বলেন, ছাত্র রাজনীতির একটা উন্মাদনা থাকে। তখন যেভাবে ছাত্রছাত্রীদের পাশে থেকে তাঁদের দাবি নিয়ে সরব হতাম এখনো তেমনই বৃহত্তর রাজনীতিতে মানুষের সেবা করে চলেছি।
আশিসের বিরুদ্ধে সিপিএম প্রার্থী হিসাবে লড়াই করছেন আরেক প্রাক্তন ছাত্র নেতা অম্বর মিত্র। সাতের দশকের শেষের দিকে এসএফআইয়ের প্রতিনিধি হিসাবে মালদহ কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পরে এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক, রাজ্য কমিটির সদস্য এবং আরও পরে সিপিএমের যুব সংগঠন ও জেলা পার্টির সম্পাদক হন তিনি। বর্তমানে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুবক্তা অম্বর বিধানসভা নির্বাচনে ইংলিশবাজারে লড়াই করছেন। তাঁর কথায়, ছাত্র রাজনীতিই আমার জীবনের দিক নির্দেশ করে দিয়েছিল। বামপন্থাকে চিনেছি ছাত্র রাজনীতি করেই। এখনো একই রাস্তায় লড়াই করছি।
রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও রাজনীতিতে পা রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার পর এসএফআইয়ের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলির জোট স্টুডেন্টস ফোরামের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেন। তাঁর বক্তব্য নজর কাড়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের। খুব অল্প বয়সে মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী হন পরপর। এরপর তৃণমূলে যোগ দিয়ে তৃতীয়বারের জন্য বিধায়ক হন তিনি। এবার সাবিনা লড়ছেন সুজাপুরে। বলেন, ছাত্র রাজনীতির পাঠ এখনকার রাজনীতিতেও কাজে লাগে। ছাত্র রাজনীতি বৃহত্তর রাজনৈতিক জগতে পা রাখতে উত্সাহিত করেছে।
গাজোলের তৃণমূল প্রার্থী প্রসেনজিত্ দাসের রাজনীতির হাতেখড়ি কলেজেই। তিনি ছাত্র পরিষদ এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতিও হন। রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত প্রসেনজিত্ বিধানসভা ভোটে লড়াই করছেন তরুণ-তরুণীদের এক বড় অংশের সমর্থন নিয়ে।
প্রসেনজিত্ বলেন, ছাত্র রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে যা শিখেছি, রাজনৈতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।