রাজ্যের অন্যতম নজরকাড়া বিধানসভা কেন্দ্র শিলিগুড়ি। এখানকার বিধায়ক শংকর এবারও বিজেপির প্রার্থী। শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর বাড়ি। পাঁচ বছরে তিনি কিছু তকমা পেয়েছেন। সেগুলির মধ্যে ‘স্কুটারম্যান’ অন্যতম। শহরে তিনি বিলাসবহুল গাড়ি না নিয়ে মূলত স্কুটারে চেপেই ঘোরেন। ভোটের ময়দানেও এভাবে বেরিয়ে হাসিমুখে জনসংযোগ করছেন। কখনও গোশালায় গিয়ে গোমাতার পুজো করছেন, নাগাসাধুর আর্শীবাদ নিচ্ছেন। আবার বাজারে, পাড়ায় ঘুরে জনসংযোগ করছেন। আসন ধরে রাখতে প্রার্থীর এমন ইমেজ তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি।
পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, আমাদের প্রার্থী সাধারণ জীবনযাপন করেন। এখনও স্কুটার নিয়ে শহরে ঘোরেন। এবার ভোটে এটাই তাঁর টিআরপি। বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্য, প্রচারে নাগরিকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলছে। এবারও পদ্ম ফুটবে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রার্থী মেয়র। শহরের কলেজপাড়ায় তাঁর বাড়ি। তিনি প্রাক্তনমন্ত্রীও। নগরিকদের সমস্যা মেটাতে ও উন্নয়ন করতে এতদিন শহরের বিভিন্নপ্রান্ত যেমন চষে বেরিয়েছেন, তেমনই নিয়মিত প্রশাসনিক বৈঠকও করেছেন। শুধু পুরসভার আধিকারিকরা নন, এসজেডিএ, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিভিন্ন জট কাটিয়েছেন। পুরবাসীর বাড়িতে রাতেও থেকেছেন। এখন ভোট-যুদ্ধের ময়দান চষে বেড়াচ্ছেন। এতদিন পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন, নাগরিক সমাজের সঙ্গে ছোটছোট বৈঠক করে ঘুঁটি সাজিয়েছেন। বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। নাগাসাধুর আর্শীবাদ নিয়েছেন। এখন হেঁটে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জনসংযোগ করছেন। তা হলেও তাঁকে ‘মিটিংম্যান’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। পুরসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, উনি মিটিং করা ছাড়া শহরের উন্নয়ন কিছু করেননি। তাই উনি ‘মিটিংম্যানের’ খেতাব জয় করেছেন।
পদ্ম শিবির যাই বলুক না কেন, গৌতমকে শহরের অভিভাবক হিসাবে তুলে ধরছে জোড়াফুল শিবির। এবার তাদের স্লোগান— শিলিগুড়ি নিজের অভিভাবককেই চায়। ইতিমধ্যে গৌতমের ছবি সহ এমন ব্যানার নিয়ে প্রচারও শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা বেদব্রত দত্ত বলেন, সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপায়ণ করতে মিটিং অত্যন্ত জরুরি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক গৌতমদা মিটিং যেমন করেন, উন্নয়নও তেমন করেন। শহরের উন্নয়নের টেস্ট উনি পাল্টে দিয়েছেন। ওঁর নেতৃত্ব ও তত্বাবধানে মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুতের কেবল, রান্নার গ্যাসের পাইপ বসছে, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এবার শেষ হাসি তৃণমূলই হাসবে। • প্রচারে শংকর ঘোষ (উপরে) ও গৌতম দেব। রবিবার শিলিগুড়িতে তোলা নিজস্ব চিত্র।