• ঘর ভাঙছেন ‘দাদা’ ক্ষুব্ধ বিজেপি প্রার্থীর মা
    বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দকুমার:  ‘আমার স্বামী ছিলেন কংগ্রেস নেতা। এখম আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল করে। বিরোধী দলনেতার পাল্লায় পড়ে ছোট ছেলে বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হয়ে গেল। এনিয়ে বাড়িতে তুমুল অশান্তি চলছে।’ 

    রবিবারের ভরদুপুর। নিজের বাড়িতে দাঁড়িয়ে ছেলের বিজেপি প্রার্থী হওয়া নিয়ে এভাবেই ক্ষোভ উগরে দিলেন দীপালি খাঁড়া। তিনি নন্দকুমার বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী নির্মল খাঁড়ার মা। নন্দকুমার ব্লকের ব্যবত্তারহাট পশ্চিম গ্রাম পঞ্চায়েতের আলাশুলি গ্রামে নির্মলবাবুর বাড়ি। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। দাদা অমল খাঁড়া ব্যবত্তারহাট পশ্চিম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। এক সময় নির্মল নিজে ওই অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। ২০২১ সালে বিধানসভার ভোটের প্রাক-মুহূর্তে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার ওই বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী। দীপালিদেবী এবং দুই ছেলে একই বাড়িতে বসবাস করেন। একসঙ্গে রান্না-খাওয়াও হয়। ছোট ছেলের প্রার্থী হওয়া নিয়ে মা আপত্তি করলেও তাতে আমল দেননি নির্মলবাবু।

    ‘দাদা’র বিরুদ্ধে কেবল যে খাঁড়া পরিবারে অশান্তি পাকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এমনটা নয়, নিজের অনুগামী নির্মলবাবুকে দলের অন্দরেও ক্ষোভে ঝড় তুলে দিয়েছেন। বিজেপির জেলা কমিটির সহ সভাপতি ভবেশচন্দ্র বর্মণ থেকে জেলা পরিষদ সদস্য বাসুদেব মন্ত্রী, পাঁচ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি বিশ্বজিৎ মণ্ডল সহ একঝাঁক নেতা তাঁকে প্রার্থী মানতে নারাজ। ইতিমধ্যেই  দলের জেলা ও রাজ্য সভাপতিকে চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা। দলের একটা অংশ চেয়েছিল প্রবীণ নেতা সুকুমার বেরা প্রার্থী হোক। কিন্তু, তিনি না হওয়ায় অনেকেই নিষ্ক্রিয়।

    নন্দকুমারের বিজেপি প্রার্থীর মা বলেন, ‘আমার স্বামী কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। একাধিকবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন। ভোট এলেই বাড়িতে কর্মীদের খাওয়া-দাওয়ার আসর বসত। পরবর্তী সময়ে আমাদের পরিবার তৃণমূল করতে শুরু করে। ২০১৭ সালে আমার স্বামী মারা যান। দুই ছেলে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিত। আচমকা ছোট ছেলে নির্মল বিজেপিতে যোগ দেয়। ২০২৩ সালে ও পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়। সেই ভোটে হেরে যায়। এবার ওকে প্রার্থী হতে বারণ করেছিলাম। কোনও কথাই শুনল না। রাত ২টা, ৩টা নাগাদ বাড়ি ফিরছে। ছেলে ও বউমা দু’জনে হাইস্কুলে চাকরি করে। এসব ঝামেলার মধ্যে না জড়ানোর কথা বলেছিলাম।’

    ব্যবত্তারহাট পশ্চিম গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন হরিহরপুর ও আলাশুলি পাশাপাশি দু’টি গ্রাম। নির্মলবাবুর বাড়ি আলাশুলি গ্রামে। আর তৃণমূল প্রার্থী সুকুমার দে’র বাড়ি হরিহরপুরে। স্বাভাবিকভাবে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এদিন হরিহরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিজেপির বুথ সভাপতি  গোপাল মাইতির উপস্থিতিতে দেওয়াল লিখন চলছে। গোপালবাবু বলেন, ‘সুকুমার দে টানা ১৫ বছর ধরে বিধায়ক। তা সত্ত্বেও এলাকায় সেভাবে কাজকর্ম করেননি। তাই এবার আমাদের প্রার্থী সুবিধাজনক জায়গা থেকে লড়াই করবেন।’

    আলাশুলি গ্রামের বাসিন্দা পেশায় টোটো চালক উত্তম ফাদিকার বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাসিন্দা নির্মলবাবু প্রার্থী। কিন্তু, সেই প্রার্থীকে নিয়ে দলের ভিতর টানাপোড়েন চলছে। যে কারণে স্বতঃস্ফূর্ত প্রচার দেখা যাচ্ছে না।’ ব্যবত্তারহাট বাজারে ২৫ বছর ধরে জুতো সেলাই করে চলছেন পুয়াদা গ্রামের নেপাল রুইদাস। তিনি বলেন, ‘নির্মলবাবুর দাদা অমলবাবু তৃণমূল নেতা। এই বাজারে প্রায়ই মাইক ধরে বিজেপিকে গালিগালাজ করেন। আবার, সেই বাড়ির ছেলে বিজেপির প্রার্থী! নির্মলবাবু একজন শিক্ষক। ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত।’এনিয়ে নির্মলবাবু বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদ থেকেই ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। বাড়িতে এনিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।’ তাঁর দাদা তথা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অমলবাবু বলেন, ‘ভাই বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। আমার এনিয়ে কোনও সমস্যা নেই।’ দীপালি খাঁড়া।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)