সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে পূর্ব বর্ধমানে বিজেপিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। আউশগ্রাম, ভাতার থেকে কালনা, বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রেই বিজেপি নেতাদের মধ্যে কোন্দল চলছে। কালনায় বিক্ষুব্ধরা প্রকাশ্যে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। আউশগ্রামে দলের একাংশ রাজ্যে চিঠি পাঠিয়েছে। ভাতারে প্রার্থীর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়েছে। মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ এবং কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি। এই কেন্দ্রগুলিতেও প্রার্থী ঘোষণার পর ক্ষোভ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। বিজেপির একাংশের দাবি, যাঁরা পুরনো দিনের নেতা, তাঁরা প্রার্থী তালিকায় ব্রাত্য থেকে গিয়েছেন। যোগ্যতা নয়, কাছের লোকজনকে প্রার্থী করা হয়েছে। সেকারণেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসছে। তৃণমূল সব বিধানসভা কেন্দ্রেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে গিয়েছে। সেখানে বিজেপি গৃহযুদ্ধেই ব্যস্ত রয়েছে। বিজেপির আদি নেতা নরেশ কোনার বলেন, পূর্ব বর্ধমান জেলার ছ’জন প্রাক্তন জেলা সভাপতির মধ্যে কাউকে টিকিট দেওয়া হয়নি। অথচ দুর্দিনে তাঁরাই দলের ঝান্ডা ধরেছিলেন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনায় প্রার্থী বদলের দাবিতে দলের একাংশ অনড় রয়েছে। তাঁরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। প্রার্থী বদল না হলে দলের হয়ে তাঁরা কাজ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ভাতারে বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফাকে নিয়ে দলের একাংশের ক্ষোভ ছিলই। রবিবার তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার দেখা যায়। সিপিএম থেকে আসা ওই নেতাকে প্রার্থী হিসাবে মানা হবে না বলে দাবি করা হয়। যদিও বিজেপি প্রার্থী বলেন, এটা তৃণমূলের কাজ। ভাতার বিধানসভায় বিজেপি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তৃণমূলের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ভাতার থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোয়ার বলেন, আমরা এধরনের রাজনীতি করি না। ওদের নিজেদের মধ্যে আগে গণ্ডগোল থামাক। তারপর আমাদের সঙ্গে ভোট ময়দানে লড়বে।আউশগ্রাম বিধাসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করার দাবিতে ইতিমধ্যেই দলের একাংশ রাজ্য নেতৃত্বকে চিঠি পাঠিয়েছে। মেমারি, কাটোয়া এবং পূর্বস্থলী দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার জন্য একাধিক দাবিদার রয়েছে। ওই তিন বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে দল এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রে বর্ধমানের বাসিন্দা এক নেতাকে প্রার্থী করার জন্য একাংশ চেষ্টা করছে। অন্য অংশ কলকাতার বাসিন্দাকে প্রার্থী করতে চাইছে। পূর্বস্থলী দক্ষিণে শনিবার তৃণমূল থেকে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া এক নেতাকে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ প্রার্থী করতে চায়। স্থানীয় নেতারা তা মানতে নারাজ। কাটোয়াতেও প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে তিন নেতা রয়েছেন। নেতৃত্বের একাংশের দাবি, প্রার্থী নিয়ে দলে বিদ্রোহ এর আগেও হয়েছে। এবার সেটা যাতে না হয় তারজন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অনেক আগে থেকে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু, কোনো কিছুই কাজে আসেনি। এমনিতেই এই জেলায় বিজেপির সংগঠন নড়বড়ে। তারপর কোন্দলের জেরে দল বিপাকে পড়েছে। কালনায় বিজেপির বিক্ষোভ।