দাগী বনাম ঋণখেলাপি, প্রশ্নের মুখে দুই দলের প্রার্থীর ভাবমূর্তি, সিন্টুর নামে ৩৯টি কেস ৩০ কোটি অপরিশোধ সিজারের
বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
শ্রীকান্ত পড়্যা, পাঁশকুড়া: ‘দাগী’ বনাম ঋণখেলাপির বাকযুদ্ধে সরগরম পাঁশকুড়া। রবিবার ঘোষপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খাঁড়ু রাধানগর পশ্চিম গ্রামে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন অম্লান মিত্র, সমীর মাইতি, নকুল রায়। এবারে পাঁশকুড়া পশ্চিমে কে জিততে পারেন তা নিয়ে চর্চা চলছিল। কথায় কথায় অম্লানবাবু বলেন, এসআইআরের জন্যই বিজেপি এবার ব্যাকফুটে। আমার স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ দিয়েছে কমিশন। আমার মতো ভুক্তভোগীর সংখ্যা কয়েক হাজার। পাশ থেকে নকুলবাবু বললেন, বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতি দাগী হিসেবে পরিচিত। তাঁর নামে ৩৯টা মামলা রয়েছে। পাঁশকুড়ায় এত বেশি ফৌজদারি মামলা আর কারও বিরুদ্ধে নেই।
খাঁড়ু রাধানগর গ্রাম ধরে এগিয়ে চলার সময়ই দেখা উত্তম সেনার সঙ্গে। উত্তম সিন্টু সেনাপতির বিশ্বস্ত সেনাপতি। পাশে ছিলেন পঙ্কজ মাইতি। পঙ্কজবাবু আবার পাঁশকুড়া-১ মণ্ডলের সহ সভাপতি। উত্তমবাবু বলেন, সিন্টু একজন ভালো মানুষ। সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। পাঁশকুড়ায় বন্যার সময় বুকসমান জলে নেমে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ত্রাণসামগ্রী দিয়েছেন। যে কারও অসুখ বিসুখ কিংবা গরিব মানুষের মেয়ের বিয়েতে সিন্টু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে শাসকদল তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা কেস দিয়েছে। যাবতীয় মামলা খারিজ করার জন্য হাইকোর্টে শরণাপন্ন হয়েছেন সিন্টু।
আসলে পাঁশকুড়ায় এবার লড়াই বেশ জমে উঠেছে। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে অনেক দাবিদার থাকলেও শেষমেশ প্রাক্তন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ খান প্রার্থী হয়েছেন। উল্টোদিকে, বিজেপির বাজি সিন্টু সেনাপতি। ২০২১সালেও সিন্টু এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। তবুও তাঁর উপর আস্থা রেখেছে দল। সিন্টুর বড় পরিচয়, তিনি দাদার অনুগামী। অনেকেই বলছেন, এই পরিচয়ই তাঁকে টিকিট পেতে এগিয়ে দিয়েছে।
তৃণমূলের সিরাজ খান প্রার্থী হওয়ার পর প্রচারে নেমেছেন। তবে, নেতৃত্বের একটা বড় অংশ এখনও তাঁর সঙ্গে নামেননি। অনেকে যোগাযোগও সেভাবে রাখছেন না। বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের কাঁকটিয়া ও তমলুক শাখা থেকে ২৪কোটি টাকা লোন নেওয়ার পর টাকা শোধ করেননি পেশায় ব্যবসায়ী সিরাজ। নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের নামে ২০০৭-’০৮ থেকে ২০১৬-’১৭সাল পর্যন্ত দফায় দফায় লোন নিয়েছেন। মেচেদায় হোটেল, নন্দকুমারে নির্মীয়মাণ হোটেল সহ প্রচুর সম্পত্তি বন্ধক রেখে লোন নিলেও একদম শোধ করেননি। সিবিআই তদন্ত হয়েছে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য ডিএম অর্ডার করলেও পুলিশ সুপার পর্যাপ্ত বাহিনী না দেওয়ায় সম্পত্তি সিজ করতে পারেনি ব্যাঙ্ক। তাঁকে প্রার্থী করায় বিরোধী শিবির তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছে।
রবিবার চৈতন্যপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারের ফাঁকে তৃণমূল প্রার্থী সিরাজ অবশ্য বলেন, সময় যত গড়াচ্ছে প্রচারে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মিলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার উপর আস্থা রেখেছেন। আমি পাঁশকুড়া পশ্চিম আসন তাঁদের উপহার দিতে চাই।
সিন্টুর বিরুদ্ধে গত ২ফেব্রুয়ারি বিজেপির প্রবীণ নেতা নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র ৯১লক্ষ ৬৫হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। সেই মামলায় রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত। তবে, বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার থেকে দূরে আছেন পাঁশকুড়ার বিজেপির একাংশ। নানা সময়ে দু’পক্ষের সংঘাত লেগে থাকত। এখন ভোটের উত্তাপ চড়লেও তাঁরা নিরুত্তাপ। সেই তালিকায় প্রাক্তন একাধিক মণ্ডল সভাপতি থেকে জেলা নেতারাও আছেন। বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতি বলেন, সিরাজ খান প্রার্থী হওয়ায় আমার জয় নিশ্চিত হয়েছে। কারণ, ওদের দলের নেতারাই প্রার্থীকে মানছেন না। তাঁরা প্রচারে নেই।