• দু’দশক আগে অসমে কাজে গিয়েছিলেন ধুবুলিয়ার বাসিন্দা , এনআরসি নোটিস প্রাপ্ত সঞ্জু শেখ ‘বৈধ ভোটার’ হলেন
    বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর:  দু’দশক আগে কাজের সূত্রে অসমে গিয়েছিলেন ধুবুলিয়ার সঞ্জু শেখ। ক’মাস আগে তাঁকে এনআরসি’র নোটিস ধরিয়েছিল অসমের বিজেপি সরকার। তীব্র উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। ক’দিন পর বাংলায় শুরু হয় এসআইআর। ঘুম উবে গিয়েছিল সঞ্জুর। কিন্তু, পরে দেখা গেল, অসম সরকারের নোটিসকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সঞ্জুকে বৈধ ভোটার ও ভারতীয় নাগরিক বলে স্বীকৃতি দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। 

    সঞ্জুর নামের এনআরসি’র নোটিস ইস্যুকে ঘিরে সে সময় বেশ তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছিলেন। এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চোখে তিনি বৈধ ভোটার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে মুখ পুড়েছে অসমের বিজেপি সরকারের। সঞ্জু এদিন বলেছেন, ‘কেন যে আমাকে এনআরসি’র নোটিস পাঠিয়েছিল, তা জানি না। আমরা তো ভারতীয়। আমার সব বৈধ নথিপত্র  রয়েছে। তাই, ভোটার তালিকায় না থাকার কোনো কারণ নেই।’ এই ঘটনা ফের গেরুয়া শিবিরের বিভাজনের রাজনীতিকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে, ভোট-বাজারে অক্সিজেন পেল শাসক শিবির। 

    ধুবুলিয়া থানার বেলপুকুর পঞ্চায়েতের সোনডাঙ্গা এলাকায় বাড়ি সঞ্জুর। গতবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে সঞ্জু সহ দু’জনের নামে এনআরসির নোটিস আসে। রাজ্যজুড়েই হইচই পড়ে যায়। ১৬ বছর আগে রুজিরুটির তাগিদে সঞ্জু একবার গুয়াহাটি গিয়েছিলেন। সেখানে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেছিলেন। সেখানে এক মাস কাজ করার পর বাড়ি ফিরে আসেন। তারপর আর অসম যাননি সঞ্জু।  হঠাৎ, গতবছর ৩ অক্টোবর তাঁর নামে অসমের বিজেপি সরকার এনআরসির নোটিস পাঠায়। ১০ দিনের মধ্যে পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল নোটিসে। যদিও সাহস করে সেই নোটিসকে অবজ্ঞাই করেছেন তিনি। 

    এই ঘটনার ক’দিন পরই বাংলায় শুরু হয়ে যায় এসআইআর পর্ব। সঞ্জু কমিশনের নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা করেছিলেন। সেই মতো তাঁর নাম খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছে। এনআরসি’র আতঙ্ক কাটিয়ে উঠেছেন সঞ্জু। আশ্বস্ত হয়েছেন ভোটার তালিকায় নাম দেখে। রবিবার তিনি বলেন, ‘এনআরসির নোটিস পেয়ে বড্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সেই সমস্যা এখন মিটে গিয়েছে।‌ ভোটার তালিকাতেও নাম উঠেছে। আমরা এখন বৈধ ভোটার এবং ভারতীয়।’ কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান এদিন বলছিলেন, ‘এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় ভোটের আগে হওয়া গরম করার জন্য বিজেপি এসব করেছিল। সঞ্জু যে বৈধ ভোটার, সেটা এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনই বলছে।‌ আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই লড়ছেন।’ কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘অসম সরকার কেন নোটিস করেছিল, সেটা তারাই বলতে পারবে। আর নির্বাচন কমিশন এসআইআরের মাধ্যমে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে চেয়েছে।‌‌ যাঁরা প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পেরেছে, তাঁদের নাম তালিকায় থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক।‌’ কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার সিপিএম প্রার্থী লাবণী জঙ্গি বলেন, ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে এই অন্যায় নিয়েই আমাদের লড়াই। কারণ, এসব করে তাদের হয়রানি ও আতঙ্কগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।‌ মানুষের পাশে থেকে আমরা লড়াই করছি।’  অসম  সরকারের  নোটিস হাতে সঞ্জু শেখ। নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)