• শেষ মুহূর্তে নানা কাজের শিলান্যাস, কোনোক্রমে তহবিলের টাকা শেষ পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়কের
    বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • সুকান্ত মাহাত, পুরুলিয়া: ভোট ঘোষণার শেষ মুহূর্তে একাধিক কাজের শিলান্যাস করে কোনোক্রমে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা শেষ করতে পেরেছেন পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক। তাঁর দাবি, মোট টাকার মধ্যে মাত্র ৭৫ টাকার কাজ বাকি রয়েছে। যদিও, বিজেপি বিধায়ক লোক দেখানো শিলান্যাস বাদে কিছুই কাজ করতে পারেননি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। 

    পুরুলিয়া শহর সহ বিধানসভা এলাকার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ভোটে জিতলেও শহর পুরুলিয়ার চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন বিধায়ক করতে পারেননি বলে অভিযোগ। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় আগেভাগে কাজ না করে শেষ মুহূর্তে তিনি একাধিক কাজের শুধু শিলান্যাস করেছেন বলে অভিযোগ। পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, পুরুলিয়া বিধানসভায় বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের মোট টাকার প্রায় ১০০ শতাংশ খরচ হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র ৭৫ টাকা মতো খরচ করতে বাকি আছে। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে কমিউনিটি হল, শেড, স্কুলের সীমানা প্রাচীর, ইলেক্ট্রিক হাইমাস্ট আলো, সোলার হাইমাস্ট আলো, পানীয় জলের জন্য গভীর টিউবয়েল অনেক করা হয়েছে। তাছাড়া তহবিলে তো নামমাত্র টাকা। সাধারণ মানুষের সবরকম পরিষেবা দিতে পেরেছি গত পাঁচ বছরে। বিজেপি ছাড়াও সিপিএম, তৃণমূল এবং কংগ্রেস যে দলেরই মানুষ বা কর্মী চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো পরিষেবার জন্য সাহায্য চেয়েছেন তা যথা সম্ভব করার চেষ্টা করা হয়েছে। কারো স্কুলে, কলেজে ভর্তি, কারো অন্যান্য সমস্যাতেও পাশে দাঁড়াতে পেরেছি। 

    যদিও বিরোধীদের অবশ্য অভিযোগ এলাকায় কোনো কাজ হয়নি। বিজেপি বিধায়ক ভোটের আগে গিমিক ছাড়া কিছুই কাজ করতে পারেননি বলে অভিযোগ সিপিএম প্রার্থী সায়ন্তন ঘোষের। তিনি বলেন, ভোটের আগে শুধু শিলান্যাস করে ছবি তুলেছেন। আর গিমিক করে ভোটে জেতার চেষ্টা করছেন। পুরুলিয়া বিধানসভার মানুষের সামগ্রিকভাবে কাজে লাগবে, এমন কী কাজ উনি করেছেন? তাছাড়া যদি অনেক কাজ করছেন তাহলে নিজের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতেই পারেন। সেই খতিয়ান তো তুলে ধরতে পারছেন না। 

    তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা যুব সভাপতি গৌরব সিং বলেন, নির্বাচনের পাঁচদিন আগে শুধুমাত্র কয়েকটি নারকেল ফাটিয়ে ব্যানার টাঙিয়েছেন। সম্পূর্ণ করা কাজের সংখ্যার তালিকা প্রকাশ করুক বিধায়ক। তিনি এলাকার মানুষের জন্য একটা অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত দিতে পারেননি। শুধুমাত্র ভোটের আগে ব্যানার টাঙিয়ে হয়তো টাকাটা বরাদ্দ করিয়েছেন। এলাকায় ঘুরলে সেই ব্যানারগুলি চোখে পড়বে। কোনো উন্নয়ন দেখতে পাওয়া যাবে না।
  • Link to this news (বর্তমান)