• বাবার তৈরি পিচে এবার ছেলের ব্যাটিং, এন্টালিতে প্রত্যয়ী তৃণমূল
    বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জানবাজারে কলকাতা টেকনিক্যাল স্কুলের উলটোদিকের গলি দিয়ে সোজা এগলে বাঁ দিকে পড়বে একটি মন্দির। তার বাঁ দিকে চলে গিয়েছে লম্বা গলি শুকুর সরকার লেন। ওই গলিতেই ৬ নম্বর বাড়িতে থাকেন এন্টালির তিনবারের বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা। তাঁর ছেলে সন্দীপন সাহা বর্তমানে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ। তিনি পুরভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। বাবা স্বর্ণকমলের বদলে ছেলে সন্দীপন সাহাকে এবার এন্টালি বিধানসভা আসনে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই সাহা বাড়িতে ভিড়। দলীয় কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে শুভানুধ্যায়ীরা অহরহ আসা-যাওয়া করছেন। দোতলার অফিস ঘরে একদিকে বাবা এবং অন্যদিকে ছেলে বসে সামলাচ্ছেন প্রচার প্রস্তুতি। বাবা বলছেন, ‘আমি এখন সেটিং সান, ছেলে রাইজিং!’ স্বর্ণকমলের তৈরি করা এন্টালির পিচে এবার ব্যাটিং করবে ছেলে সন্দীপন। স্বভাবতই বাবার চোখেমুখে তৃপ্তির ছাপ। দশ বছরের কাউন্সিলার সন্দীপন বাবার সঙ্গে ঘুরেছেন গোটা এন্টালি। ফলে এই কেন্দ্রের পাঁচটি ওয়ার্ডেই তিনি পরিচিত মুখ। কোথাও বাবা যেতে না পারলে সামনে থেকে দুর্গ আগলেছেন সন্দীপন। স্থানীয় স্তরে কাজ, তৃণমূল স্তরে মেলামেশা, বাসিন্দাদের রোজকার চাওয়া-পাওয়া জুগিয়ে চলা সন্দীপনকেই এবার বিধানসভা নির্বাচনে এন্টালিতে প্রার্থী করেছে জোড়াফুল শিবির।

    এসআইআরের আগে যে এন্টালিতে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার ভোটার ছিল, তা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৮৪ হাজারে। তার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ভোটার ‘বিচারাধীন’। এই পরিস্থিতিতে লড়াই কি খানিকটা কঠিন হবে? প্রার্থীর প্রত্যয়ী জবাব, একদমই নয়। ২০২১ সালে তুমুল বিজেপি হওয়াতেও এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫৯ হাজারের জিতেছিলেন স্বর্ণকমল সাহা। পাঁচটি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৮ নম্বরই সবথেকে বড়ো। প্রায় ৭০ হাজার ভোটার রয়েছে এখানে। অবাঙালি অধ্যুষিত এই ওয়ার্ড জোড়াফুলকে ভালো মার্জিন দিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই তাই এই কেন্দ্রে অঙ্কের হিসাবে স্বস্তিতে সন্দীপন। যে জমিতে গত ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক ফসল ফলিয়েছেন স্বর্ণকমল, সেই উর্বর জমিতে এবার বিধায়ক হিসাবে কি হাতেখড়ি হবে সন্দীপনের? স্বর্ণকমলের কথায়, যখন প্রথম এন্টালিতে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন দেখেছিলাম এলাকায় সেভাবে উন্নয়নের কাজ হয়নি। তারপর একে একে অনেক কাজ করেছি। এলাকার মানুষ আমাকে চেনেন। আমি তাঁদের সর্বক্ষণের সঙ্গী। তাই বাবা-ছেলের জুটিতেই ভরসা রাখবে এন্টালি। 

    আইএম জোকার স্কলার সন্দীপন চাকরি করতেন লন্ডনে। তারপর বাবার ইচ্ছায় দেশে ফিরে বেঙ্গালুরুতে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে সটান রাজনীতিতে। বাবা-ছেলের জুটিকে সামলাবেন কী করে? প্রশ্ন শুনেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। তাঁর কথায়, এই কেন্দ্রে শুধু একটা পরিবার কেন বরাবর টিকিট পাবে? এই প্রশ্ন তো স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরাই তুলছেন। তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে তো অনেকেই ছিলেন। আসলে একটি পরিবারের হাতেই সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। এসব তৃণমূলের কর্মীরাই ভালো চোখে দেখছেন না। এই পরিবারের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার সময় এসেছে। একথা শুনে সন্দীপনের ঠোঁটে মৃদু হাসি। বলছেন, বিজেপি ওনাকে প্রার্থী করায় তাঁর দলের কর্মীরাই ক্ষুব্ধ। তাঁরা বিজেপি অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। যে নেত্রীকে নিজের দলের কর্মীরাই ভরসা করেন না, তাঁর উপর এন্টালির মানুষ নির্ভর করবে কী করে!
  • Link to this news (বর্তমান)