‘কোথায় গেল নারী-দরদ’? কটাক্ষ তৃণমূলের, ‘গিমিকে লাভ হবে না’, বিজেপির পালটা তোপ
বর্তমান | ২৩ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ২৬-এর বিধানসভা ভোটে সন্দেশখালির রাজনীতিতে অদ্ভুত এক বৈপরীত্য! যে বিজেপি একসময় ‘মহিলা-দরদ’ সামনে রেখে এই অঞ্চলকে জাতীয় স্তরে বিতর্কের কেন্দ্রে তুলে এনেছিল, সেই দলই এখানে মহিলা প্রার্থী দিতে পারল না। আর সেই কেন্দ্রে এবার মহিলা প্রার্থী করে চমক দিল তৃণমূল। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে বিজেপির দাবি, সন্দেশখালিতে পদ্মফুলের সঙ্গে মানুষ আছেন। তৃণমূল যতই ‘গিমিক’ করার চেষ্টা করুক, কাজ হবে না। সন্দেশখালিতে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন ঝরণা সর্দার। উলটো দিতে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সনৎ সর্দার।
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নদীঘেরা সন্দেশখালি। সেই পরিস্থিতিকে ‘হাতিয়ার’ করে বিজেপি আসরে নেমে পড়ে। কিছুদিন পরেই ছিল লোকসভা ভোট। সন্দেশখালিতে নারী নির্যাতনের অভিযোগকে সামনে রেখে ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং সেই আবেগকে বৃহত্তর নির্বাচনি সমীকরণে পরিণত করার কৌশল নিয়েছিল গেরুয়া শিবিরের। সেই সূত্রে তারা লোকসভা ভোটে সন্দেশখালির ‘প্রতিবাদী মুখ’ রেখা পাত্রকে বসিরহাট কেন্দ্রে প্রার্থীও করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিজেপির সেই বয়ান মানুষের গ্রহণযোগ্যতা হারায়। লোকসভা ভোটে প্রত্যাশিত ফল না আসায় বিজেপির অবস্থানে সূক্ষ্ম বদল চোখে পড়ে। যে ইস্যুতে এতদিন সরব ছিল দল, সেই নারী নির্যাতনের বিষয়টি ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়। এই অবস্থায় সন্দেশখালিতে মহিলা প্রার্থী না দেওয়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্যা ঝরণাদেবীকে প্রার্থী করে তারা শুধু চমকই দেয়নি, বিজেপির তৈরি করা ময়দানে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অর্থাৎ, যে ‘মহিলা-দরদ’ বিজেপির হাতিয়ার ছিল, সেটাই এখন নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে ঘাসফুল শিবির।
রাজনীতিতে ইস্যু তৈরি করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই ইস্যু ধরে রাখা তার থেকেও বেশি কঠিন। সন্দেশখালির ক্ষেত্রে বিজেপির সমস্যা সেখানেই বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। তৃণমূলের প্রশ্ন, ওই ‘দরদ’ কি আদৌ বিজেপির দীর্ঘস্থায়ী কোনো রাজনৈতিক অবস্থান ছিল? নাকি তা কেবল নির্বাচনি কৌশল? তৃণমূল প্রার্থী ঝরণাদেবী বলেন, ‘মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে স্পষ্ট, জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। যারা একটা সময় বিজেপির হয়ে গলা ফাটাচ্ছিল, তারা আমার সঙ্গে প্রচার করছেন। আসলে সেই সময় বিজেপি মহিলাদের টাকা দিয়ে আন্দোলন হাইজ্যাক করেছিল। ওরা যে মানুষের ভালো চায় না, তা প্রমাণিত।’ বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, ‘সন্দেশখালির সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে, মা-বোনেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আমাদের দল সেরা প্রার্থী বাছাই করে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। এখানে নারী-পুরুষ, কোনো বিভেদ নেই। তৃণমূলকে পরাস্ত করে সন্দেশখালির মানুষ আমাদের প্রার্থীকে এবার বিধানসভায় পাঠাবেন। এই বিশ্বাস আমাদের আছে।’