নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার পর সংগঠন ঝালিয়ে নিতে নেমে পড়েছেন তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ। চতুর্থবারের জন্য প্রার্থী হওয়ার পর বুথভিত্তিক বৈঠককে হাতিয়ার করে আগেভাগে সংগঠনের ভিত মজবুত করার চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয় দফাতেও এই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। বামেরা এখানে প্রার্থী দিচ্ছে না। লড়বে আইএসএফ। সেই প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা হয়নি।
যদিও শাসক দলের এই তৎপরতাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিরোধীরা। তাদের টিপ্পনি, চাপে পড়ে আগে থেকে মাঠে নামছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার পর প্রথমেই শহর ও গ্রামীণ এলাকার নেতৃত্বকে নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন বিদায়ী মন্ত্রী রথীন ঘোষ। তাঁর লক্ষ্য একটাই—প্রতিটি বুথের বাস্তব চিত্র বুঝে নেওয়া। কোথায় সংগঠন ঢিলেঢালা, কোথায় কর্মীসংযোগ কম—এসব খুঁটিয়ে দেখে দ্রুত ঘাটতি পূরণের বার্তা দেওয়া হয়েছে। ছোটো ছোটো বৈঠকের মাধ্যমে বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে তৃণমূল। সঙ্গে চলছে দেওয়াল লিখনও। এই প্রস্তুতির আর একটি দিক হল, প্রচারের রূপরেখা তৈরি। কোন বিষয়গুলি সামনে রেখে ভোটারদের কাছে পৌঁছনো হবে তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে। স্থানীয় সমস্যা, বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি—এসব তথ্য সংগঠিত করে প্রচারে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। একইসঙ্গে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, সে দিকেও কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের এই আগাম তৎপরতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে না বিজেপি। বারাসতের বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, বুথস্তরে শাসকদলের সংগঠন আগের মতো সংহত নয়। বৈঠক করে সংগঠন শক্তিশালী হয় না, বাস্তবে কী অবস্থা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আমাদের জেতাবে। ওদের নেতাদের হঠাৎ করে উত্থান মানুষ ভালোভাবে মেনে নেবে না। তাই মানুষ এবার আমাদের উপর ভরসা রাখবে। পালটা তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ বলেন, বিরোধীদের নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। মুখ্যমন্ত্রীর জনহিতকর প্রকল্পে সবাই উপকৃত। তাই আমরা এখন বুথ ও ওয়ার্ড ধরে ধরে ছোটো ছোটো ঘরোয়া বৈঠক করছি। এখনই বড়োসড়ো কর্মসূচি নেই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রার্থী ঘোষণার পরেই এই কেন্দ্রে লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট হবে। তার আগে পর্যন্ত সংগঠন গোছাতে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে শাসকদল।