সংবাদদাতা, বারুইপুর: জয়নগরে তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বনাথ দাস। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তৃতীয়বার ভোটে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন। সিপিএমের প্রার্থী ছাত্রনেতা এবং এখানকার ভূমিপুত্র অপূর্ব প্রামাণিক। তিনি গত বিধানসভা ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন। বিজেপির প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন আর এক ভূমিপুত্র অলোক হালদার। তিনিও বয়সে তরুণ এবং নতুন মুখ। তিনপক্ষই বিনা যুদ্ধে জমি ছাড়তে রাজি নয়। জোরদার প্রচার চালাচ্ছেন।
তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বনাথ দাস বলেন, ‘এবার আমার জয়ের ব্যবধান বাড়বে, কর্মী-সমর্থকরাই সে কথা বলছেন। মানুষ যেভাবে আশীর্বাদ করছেন তার ফল পাবই।’ বিরোধী অপূর্ব প্রামাণিক ও অলোক হালদার পাল্টা বলেন, ‘জয়নগরে বদল চাইছে মানুষ। পরিবর্তন হবেই।’
জয়নগরের দক্ষিণ বারাসতে বাড়ি বিশ্বনাথবাবুর। বারুইপুর হাইস্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক। কয়েকমাস আগে অবসর নিয়েছেন। তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। অপূর্ববাবু ৩৬ বছরের যুবক। তিনি দক্ষিণ বারাসতেরই বাসিন্দা। এসএফআই’য়ের দক্ষিণ ২৪ পরগনার নেতা ছিলেন। জনপরিচিতি ভালো ফলে প্রচারে কর্মীদের ভিড় চোখে পড়ছে। অলোকবাবুর বয়স ৩৩ বছর। মায়াহাউরি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। তাঁর প্রচারে যুবকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।
১২টি পঞ্চায়েত ও জয়নগর-মজিলপুর পুরসভা নিয়ে জয়নগর বিধানসভা এলাকা। সেখানে বিশ্বনাথবাবু সকাল থেকে বেরিয়ে পড়ছেন প্রচারে। এলাকার বাসিন্দারা তাঁকে নিজেদের সমস্যার কথা বলছেন। নমস্কার, আশীর্বাদ করছেন। এসইউসিআই’য়ের শক্ত দুর্গে একদা ফাটল ধরিয়ে জোড়াফুল ফুটিয়েছিলেন মাস্টার বিশ্বনাথ। গতবার বিধানসভা ভোটে ৩৯ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘জয়নগরজুড়ে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তাঘাটের পরিবর্তন হয়েছে। আরও কিছু পরিকল্পনা আছে। ১ লক্ষ ভোল্টের পাওয়ার হাউস তৈরি হচ্ছে। তারপর বিদ্যুৎ সমস্যা মিটবে।’ তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার জলজীবন প্রকল্পের টাকা বন্ধ করেছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা বরাদ্দ করেছেন। পানীয় জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া অগ্রাধিকার। জয়নগরের অন্যতম সমস্যা যানজট। তা কমাতে জয়নগর ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন জায়গা রেলের কাছ থেকে লিজে নেওয়া হয়েছে। ফলে সব স্ট্যান্ড ওই জায়গায় সরবে। সিপিএমের অপূর্ব বলেন, ‘এই বিধানসভার দু’টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাল বেহাল। এর পরিবর্তন করতে হবে। পানীয় জলের সমস্যা দুর করতে হবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান করতে হবে।’ শিক্ষক ও ছাত্রনেতাকে টেক্কা দিতে বিজেপির অলোক গ্রামে ঘুরে প্রচার করছেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছি। মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভোটে লড়াই করছি।’ তিনিও জয়নগরের দু’টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবর্তন চান। পাশাপাশি বিকল্প রাস্তা তৈরি করতে চান যানজট সমস্যা দুর করতে। -নিজস্ব চিত্র