এই সময়: বিধানসভা ভোটের (Assembly Elections) নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক রদবদল নিয়ে বিতর্ক দানা বেধেছে। রাজ্যের প্রশাসনিক পদে থাকা অভিজ্ঞ আধিকারিকদের সরিয়ে ভিন রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো বা অন্য পদে বদলি করার বিষয়টিকে সহজ ভাবে নিতে পারছেন না বিশিষ্টজনেরা। এই ‘গণবদলি’–কে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ‘প্রতিহিংসামূলক’ বলে সরব হয়েছেন। সেই সুরেই এ বার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলো ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’। তাদের অভিযোগ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নামে রাজ্যে কার্যত ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’ (President Rule) জারি করার মরিয়া চেষ্টা চলছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে রবিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’-র তরফে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে শুরুতেই কবি শ্রীজাত তাঁর লেখা ‘পথিকের গান’ কবিতার পংক্তি পাঠ করেন। তাঁর কবিতায় ফুটে ওঠে নৈতিকতার লড়াই— ‘কেউ না–বলুক, আয়না তো বলে দেবে/তুমি কোন দলে। ন্যায়, নাকি অন্যায়?’ ভার্চুয়ালি নিজের মতামত ব্যক্ত করেন কবি জয় গোস্বামীও। সভায় উপস্থিত বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের প্রত্যেকের সুরেই ছিল আশঙ্কার প্রতিধ্বনি। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার, চিকিৎসক শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত, পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, শিক্ষাবিদ অনন্যা চক্রবর্তী, সঙ্গীতশিল্পী সৈকত মিত্র, অভিনেতা রাহুল চক্রবর্তী ও বীরেশ চক্রবর্তী এবং অভিনেত্রী সোমা চক্রবর্তী।
গণমঞ্চর সদস্যদের মূল অভিযোগ— সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, কিন্তু বর্তমানে কমিশনের ভূমিকা যেন নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের আকাঙ্ক্ষা পূরণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গাদের বিষয়টি খাড়া করে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাকেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বলে দাবি করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁদের প্রশ্ন, কেন দু’দফায় নির্বাচন (তথ্যানুযায়ী) এবং নির্বাচনের মুখেই কেন রাজ্যের প্রশাসনিক মেরুদণ্ডকে নাড়িয়ে দেওয়ার এই চেষ্টা? অভিরূপের কথায়, ‘বাংলায় বাংলার সরকারের সামাজিক প্রকল্পের সুবিধে শুধু তৃণমূলের ভোটাররা পান না। সকলে পান। এত বেশি সংখ্যক আধিকারিকদের সরিয়ে নিয়ে সেই কাজে ভয়ঙ্কর বাধা তৈরি করা হচ্ছে। তাতে আদতে গরিব মানুষই পরিষেবা–বিচ্ছিন্ন হবেন।’
প্রতিবাদ সভা থেকে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলেছে। প্রথমত, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপের স্বচ্ছ ও লিখিত ব্যাখ্যা কমিশনকে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আধিকারিকদের বদলির ক্ষেত্রে কোনও সুসঙ্গত নীতি মানা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করতে হবে। এবং তৃতীয়ত, কেন্দ্র ও রাজ্যের সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষায় অবিলম্বে অর্থবহ সংলাপ শুরু করতে হবে।