• সাপ্লিমেন্টারি লিস্টের আগেই রাজ্যজুড়ে তৎপরতা পুলিশের
    এই সময় | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: বাংলায় 'বিচারাধীন' বা 'আন্ডার অ্যাজুডিকেশন' (Under Adjudication) তালিকায় থাকা ভোটারদের একাংশের নাম নিয়ে আজ, সোমবার বিকেলে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) (Election Commission)। যাঁদের নাম তালিকায় থাকবে না, তাঁরা এ বার ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ–গোলমালের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ দিকে, এ বারের বঙ্গ–বিধানসভা ভোটে যাতে কোনও ধরনের হিংসা বা মৃত্যুর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্ক ইসি।

    পুলিশও বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের আগের দিন, রবিবারই কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দ, বিধাননগরের সিপি মুরলীধর শর্মা ও বিভিন্ন জেলার পুলিশকর্তারা নিজেদের এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। ভোট পর্বে কী ভাবে আইন–শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, কমিশনের 'টার্গেট' কী, সে সব নিয়ে নিচুতলার পুলিশকর্মীদের বার্তাও দেন তাঁরা।

    দুপুর দেড়টা নাগাদ ভাঙড় থানায় যান কলকাতার সিপি। সেখানে পুলিশ অফিসার ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, 'রুটমার্চ করাতে গ্রামের শেষ বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। কোথাও ছাপ্পা বা বুথ জ্যামিংয়ের অভিযোগ উঠলে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। কেউ যাতে কোনও ভোটারকে চমকাতে বা ভয় দেখাতে না পারে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ধরনের কোনও অভিযোগ এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।' পাশাপাশি বাহিনীকে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করা, প্রতিটি বাড়ি জওয়ানদের চেনানোর উপরে জোর দেন অজয়।

    সেখান থেকে হেয়ার স্ট্রিট, বউবাজার থানায় যান সিপি। গত ১৪ মার্চ কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার দিন বিজেপি–তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গিরিশ পার্ক এলাকা। চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। হামলা, ভাঙচুর চলে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে। শশী নিজেও আহত হন। সেখানে যাতে ফের কোনও উত্তেজনা তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে বেশ কিছু নির্দেশ দেন সিপি। পরে তিনি জানান, ভোটে হিংসা কমিশন কোন বিষয়গুলিতে জোর দিচ্ছে, সেটাও অফিসারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।' এরই মধ্যে বারুইপুর, সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুর থানার অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডিআইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই। ওসি–দের সঙ্গে মিটিং করেন বারুইপুরের এসপি শুভেন্দ্র কুমারও। বাহিনীর রুটমার্চ ছাড়াও ভোটারদের পাশে থাকার বার্তা দেন পুলিশকর্তারা।

    অতীতের একাধিক ভোটে ভাঙড়–লাগোয়া রাজারহাট, নিউ টাউন এবং সল্টলেকের কিছু কিছু এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। এ বার যাতে তেমনটা না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে ভোটের প্রস্তুতি–বৈঠকে এ দিন সে দিকে জোর দেন বিধাননগরের সিপি মুরলীধর শর্মা। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের ছ'টি অবজেকটিভ রয়েছে, যার প্রথমটিই হলো, হিংসা–রোধ। আমরা সে দিকে নজর দিচ্ছি। ভোটের দিন যাতে প্রত্যেক ভোটার বুথে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী পদক্ষেপকরব আমরা।' এ দিনই মালদার মানিকচক থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে দুষ্কৃতী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ দেন এসপি অনুপম সিং। ক্রিমিনালদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারিও দেন। থানার আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক সারেন মালদা রেঞ্জের ডিআইজি দীপনারায়ণ গোস্বামী এবং এসপি।

  • Link to this news (এই সময়)