• রাজ্যের প্রার্থীদের হয়ে ভোট–ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে বহু যুবক, পড়ছে পোস্টার
    এই সময় | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • জয় সাহা

    মেদিনীপুর শহরে (Midnapore City) নানা ধরনের বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং ছড়িয়ে। কিন্তু এই ভোটের মরশুমে পথচলতি অনেকেরই চোখ আটকে যাচ্ছে একটি বিশেষ ব্যানারের দিকে। যেখানে লেখা ‘ভোটে জেতার আইডিয়া।’ তারপরে আরও একটা লাইন — ‘ইলেকশন উইন ট্র্যাজেডি’!

    রসিক পথচারী বলছেন, ‘আরে ইলেকশন উইন টা প্রার্থীর কথা ভেবে। ট্র্যাজেডি যা, সে তো আমাদেরই।’ তাও আবার হয় নাকি! ব্যানারে থাকা মোবাইলে ফোন করলে ও পার থেকে মহিলা কণ্ঠের যুক্তি — ‘আরে! বোঝার চেষ্টা করুন। স্ট্যাটেজি লিখতে গিয়ে ভুল করে ট্র্যাজেডি হয়ে গিয়েছে।’ তা হলে ক্যাহেনা কেয়া চাহতে হো! মানে বলতে কী চাইছেন! ভোটে জেতার আইডিয়া–টাইডিয়া দেন নাকি? প্রশ্নের উত্তরে মহিলা বলেন, ‘দু’ঘণ্টা পরে আমাদের স্যর বেরাবাবু আপনাকে কল করবেন। যা বলার উনিই বলবেন!’

    দু’ঘণ্টা না হলেও ফোনটা এসেছিল সাড়ে তিন ঘণ্টা পরে। তাতে বেরাবাবু নামে ওই ‘স্যর’ জানান, ভোটে জিততে গেলে প্রথমেই জানতে হবে কোথায় কোথায় টাকা খরচ করতে হবে। কী ভাবে প্রচার করতে হবে, সোশ্যাল মিডিয়াকে কী ভাবে ব্যবহার করতে হয় এবং সব শেষে কী করলে জনতা এবং মিডিয়ার নজরে আসবেন প্রার্থী। পাশাপাশি নির্দল বা ছোট পার্টি হলে লোক জোগাড় করে প্রচার করা, দেওয়াল লেখা, নমিনেশনের দিন ব্যান্ড–পার্টি–সহ পদযাত্রা — এই সমস্ত কিছুরই আয়োজন করা হবে। ভোটের জন্য ওয়ার–রুম তৈরিতেও সহায়তা করা হবে। ভোটের দু’মাসের জন্য এই এজেন্সিকে বুক করতে হলে দিতে হবে বেশ কিছু টাকা। স্পট বুকিংয়ে ২০ পার্সেন্ট ডিসকাউন্টের অফারও দেওয়া হচ্ছে!

    রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল হোক বা কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি, দুই ফুলের জন্যই রয়েছে একাধিক ইলেকশন ‘স্ট্র্যাটেজিস্ট’ বা ভোটকুশলী সংস্থা। তৃণমূলের আইপ্যাক (IPAC) থেকে বঙ্গ বিজেপি অন্তত তিনটি ভোটকুশলী সংস্থাকে নিয়োগ করেছে ভোটের নানা কাজের জন্য। প্রচার তার মধ্যে একটা কাজ। কিন্তু ভোট উপলক্ষেই এখন কলকাতা শহর ও রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে এমন অনেক ছোটখাটো ভোটকুশলী সংস্থা, যারা প্রার্থীদের কাছে গিয়ে আবেদন করছেন তাদের নিয়োগ করতে।

    এমনই একটি সংস্থার কাজ শুরু করেছেন কলকাতা এয়ারপোর্ট (Kolkata Airport) এলাকার এক যুবক। ইতিমধ্যে দু’জন প্রার্থীর হয়ে কাজও শুরু করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বড় দলগুলির ভোটকুশলী সংস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটা জেনারেল গাইডলাইন মেনে প্রচার ও প্ল্যানিং করে। কিন্তু প্রার্থীদের রেগুলার কাজ করার জন্য আরও পরিকাঠামোর প্রয়োজন হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট দলের গাইডলাইন এবং প্রচারকে বেস করেই আরও গভীর ভাবে সাহায্য করি।’

    এই কারণে এই সংস্থাগুলির হয়ে একাধিক ম্যান–পাওয়ারেরও দরকার পড়ে। যেমন গ্রাফিক্স আর্টিস্ট, ভিডিয়ো এডিটর, থাম্বনেল ডিজ়াইনার, ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ, দেওয়াল লিখনের শিল্পী থেকে প্রচারের জন্য অটো থেকে টোটো চালকদের ফ্রি ল্যান্সিংয়ে রাখা হচ্ছে। শিলিগুড়িতে এমনই এক সংস্থার কর্ণধার বলছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া এখন খুব জরুরি। সেই কাজ করার জন্য দক্ষতাও প্রয়োজন। আমরা সেই কাজটা যেমন করে থাকি, তেমনই ভোটের দিন কর্মীদের স্ট্র্যাটেজি কী হবে, কোন এলাকায় কী বলে প্রচার করতে হবে, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কী ভাবে ডিল করতে হবে, তা অনেক প্রার্থীরই জানা থাকে না। বিশেষ করে ছোট দল বা নির্দলদের। তাঁদের সহায়তা করি।’ ওই যুবক জানাচ্ছেন, ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচন থেকেই এই কাজে হাত পাকাচ্ছেন তিনি। এমনিতে তিনি ব্যবসায়ী। কিন্তু ভোটের সময়ে সেই ব্যবসা বাবার হাতে ছেড়ে আপাতত এই স্ট্র্যাটেজিতেই মনোনিবেশ করেছেন তিনি। এঁদের অনেকেই আশা রাখেন, আগামিদিনে মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা থেকে দেশ ও রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ লিডারদের হয়ে কাজ করবেন। তাই আপাতত ছোট ছোট করেই হাত পাকাচ্ছেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)