এই সময়: বাংলায় ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ (Under Adjudication) বা ‘বিচারাধীন’ লিস্টে থাকা ‘পাশ’ করা ভোটারদের একাংশের নাম জানিয়ে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরোতে চলেছে আজ, সোমবার। তার আগের দিন, রবিবার চেতলায় দলীয় কর্মিসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাস, ‘যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে বা এই প্রক্রিয়ার (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা ‘সার’) (SIR) জেরে যাঁরা সমস্যায় পড়বেন, তাঁদের আমরা আইনি সাহায্য করব।’
বিস্তর জল্পনা সত্ত্বেও গত শুক্রবার লিস্ট বেরোয়নি। আজ, সোমবার বিকেলে তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) (ইসি)। তার পরে যাতে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করেছে নবান্ন। তৎপর কমিশনও। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল এ দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বৈঠক করেন। লিস্ট দেখে যাতে কোনও উত্তেজনা তৈরি না হয়, সেটাই নিশ্চিত করবে বাহিনী। কমিশনের তরফেও কড়া নজরদারি থাকবে। বুথে বুথে তালিকা বেরোনোর পরে অনলাইনেও তা দেখা যাবে।
ইসি সূত্রে খবর, বাংলায় ‘বিচারাধীন’ তালিকাভুক্ত ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের মধ্যে গত শুক্রবার পর্যন্ত ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। এঁদের মধ্যে কতজনের নথি বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসারদের সন্তুষ্ট করতে পেরেছে, কমিশন সেটা খোলসা না করলেও সূত্রের দাবি, ‘ফেল’ করেছেন প্রায় ৪০ শতাংশ। গত শুক্রবার তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশের দিন মুখ্যমন্ত্রীও বলেছিলেন, ‘আমি যতদূর শুনেছি, ৬০ লক্ষের মধ্যে ২২ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে ১০ লক্ষ বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা আমি শুনেছি।’ বাদ যাওয়া ভোটারদের বেশিরভাগই মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুরের মানুষ বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তা ছাড়া, ভোটের আগে এই প্রক্রিয়া আদৌ শেষ হবে কি না, সে প্রসঙ্গেও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ৭০৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারককে ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের নিষ্পত্তির দায়িত্ব দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তাঁদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হবে আজ। ‘পাশ’ ও ‘ফেল’, দু’ধরনের ভোটারের নামই থাকবে লিস্টে। তবে নামের পাশে ‘পাশ’, না ‘ফেল’ সেটা উল্লেখ করা হবে। বাদ যাওয়া ভোটাররা তাঁদের নাম পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন ট্রাইব্যুনালে।
এ বার বাংলার বিধানসভা ভোটে হিংসা ঠেকাতে কার্যত নজিরবিহীন নজরদারি ও কড়াকড়ির রাস্তা ধরেছে কমিশন। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব দিয়ে শুরুর পরে এ পর্যন্ত রাজ্যে পুলিশ–প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের বহু কর্তাকে বদলি করেছে তারা, অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়েছে এঁদের কাউকে কাউকে। ভোট ঘোষণার বেশ ক’দিন আগে থেকে জওয়ানরা পৌঁছতে শুরু করেছেন বাংলায়। ইতিমধ্যে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী এসেছে, ধাপে ধাপে আরও ১৯২০ কোম্পানি ফোর্স আসবে। এ বাদে আছেন পর্যবেক্ষকরা। ইদের আগে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরোলে হিংসার আশঙ্কা করে দিনও পিছিয়ে দেয় কমিশন। তার উপরে সামনে রামনবমী। তাই বাড়তি সতর্ক নবান্ন এবং ইসি। এখন দেখার, ‘রেজ়াল্ট’ বেরোনোর পরে ক’জন ‘পাশ’ করেন আর ক’জন ‘ফেল’।