ভোট ঘোষণার পরে প্রথম রবিবারে রাজ্য জুড়ে যখন প্রচার তুঙ্গে, সেই দিনও বিজেপিতে প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভে ইতি পড়ল না। হিঙ্গলগঞ্জে দলের প্রার্থী তথা সন্দেশখালি-আন্দোলনের অন্যতম ‘মুখ’ রেখা পাত্র-সহ বেশ কয়েক জন প্রার্থীকে বদলের দাবিতে বিজেপির বিধাননগরের দফতর এবং রাজ্যের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কর্মীদের একাংশ। বেশির ভাগ বিক্ষোভ থেকেই প্রার্থীরা ‘বহিরাগত’ বলে সরব হয়েছেন কর্মীরা।
গত কয়েক দিনের মতো এ দিনও বিজেপির বিধাননগরের দফতরে হিঙ্গলগঞ্জের রেখা এবং শ্রীরামপুরের প্রার্থীকে বদলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কর্মীদের একাংশ। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, লোকসভা ভোটের পরে পাশে তো নয়ই, এমনকি অনেক সময় ফোনেও পাওয়া যায়নি রেখাকে। পাশাপাশি, রেখা হিঙ্গগঞ্জের ভূমিকন্যাও নন। তাই স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করা হোক। শ্রীরামপুরের বিজেপি প্রার্থী তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ, এমনকি সম্প্রতি তৃণমূলের সঙ্গে মিলে দলেরই কয়েক জনকে মার খাইয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতির সামাল দিতে এ দিনও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের প্রার্থীকে বদলের দাবিতে দলের জেলা দফতরে ডঙ্কা, কাঁসর, পোস্টার হাতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিত মতুয়া বাসিন্দাদের একাংশ। এখানেও কোনও ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার দাবি উঠেছে। পূর্ব বর্ধমানের কালনাতেও প্রার্থী ‘বহিরাগত’ বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন কর্মীদের একাংশ। এমনকি, প্রার্থীর প্রচার চলাকালীন কয়েক জন ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা দলের প্রাক্তন রাজ্য সহ-সভাপতি রাজকমল পাঠকের সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট ঘিরেও শুরু হয়েছে চর্চা। সেখানে রাজকমল বলেছেন, “যাঁদের টিকিট পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা পেলেন না। আমি ৩৫ বছর টিকিট পাইনি বলে বলছি না। আমি দলের ক্ষতি চাই না। কিন্তু ২০২১-এর মতো এই বারও ট্রেন ‘মিস’ হোক, তা চাই না।”
যদিও রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের বক্তব্য, “রাগ এবং অনুরাগের মধ্যে অণু-সমান পার্থক্য। কর্মীরা কোথাও কোথাও অতিরিক্ত আবেগ দেখিয়ে ফেলছেন। তবে বোঝালে বুঝছেনও। বাঙালি তৃণমূলকে সরানোর যে দায়িত্ব আমাদের দিয়েছে, আমরা সবাই মিলে তা পালন করব।” তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের টিপ্পনী, “আগে ঘর সামলা, পরে ভাববি বাংলা!”