এই সময়, কোচবিহার: কেমন আছেন? কোনও সমস্যা আছে? কেউ ভয় দেখাচ্ছে? ভোটের ডিউটিতে আসা ভিনরাজ্যের জওয়ানদের মুখে ভাঙা ভাঙা বাংলায় এ রকম কথা শুনলে অবাক হবেন না। রবিবার কোচবিহারে জেলাশাসকের দপ্তরে (District Magistrate's Office in Cooch Behar) কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল আধিকারিকদের সঙ্গে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক জিতিন যাদবের দীর্ঘ বৈঠক হয়। সেখানেই ভাষা সমস্যার প্রসঙ্গ উঠে আসে। তার পরেই কাজ চালানোর মতো বাংলা বা হিন্দির সঙ্গে সম্পৃক্ত যে সমস্ত শব্দ রয়েছে সেগুলো জওয়ানদের শেখানোর কথা বলেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। এতে জওয়ানদের এরিয়া ডমিনেশনের সময়ে জনসংযোগে যেমন সুবিধা হবে তেমনি সাধারণ মানুষ সহজে কথাও বলবে, মনে করছে প্রশাসন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে এমনই স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে কোচবিহার জেলা প্রশাসন।
২০২১–এ বিধানসভা নির্বাচনে (2021 Assembly Election) শীতলখুচি বিধানসভার জোরপাটকি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার কথা মাথায় রেখে এ বার বুথ এবং সংলগ্ন এলাকায় স্পর্শকাতর বুথগুলো নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা নির্বাচন দপ্তর। সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোচবিহারে সব মিলিয়ে ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। জেলার আড়াই হাজারের বেশি বুথের জন্য আরও ১৮৫ কোম্পানি অর্থাৎ প্রায় ২০০ কোম্পানির কাছাকাছি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে পারে বলে খবর। সাধারণ মানুষের মনোবল ফেরাতে এবং ভোটের সময়ে গন্ডগোল আটকাতে তাঁদের মাঠে নামানো হলেও অনেক সময়ে ভাষা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে তাঁরা যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কানেক্ট করতে পারেন, সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা নির্বাচন কমিশন। সমস্যা মেটাতে হিন্দি–বাংলা মিশ্রণ বা সমগোত্রীয় শব্দ ব্যবহার করে এলাকায় খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়ে জোর দিতে বলা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা যাতে কোনওভাবেই প্রভাবিত না হন, সেই বিষয়টিতেও এ বার জোর দিয়েছে প্রশাসন। অনেক সময়ে দেখা যায়, জওয়ানরা রুট মার্চে গেলে গ্রামের মানুষ খাবারদাবার দেন। এ বার তা কোনও ভাবেই করা যাবে না বলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল আধিকারিককে জানিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জওয়ানদের থাকার জায়গায় যাতে পর্যাপ্ত আলো, পানীয় ও শৌচালয়ের ভালো ব্যবস্থা থাকে, সেটা জেলা নির্বাচন দপ্তরকে দেখতে বলা হয়েছে। এ দিন সর্বদলীয় বৈঠক করেন ডিএম ও এসপি।