সুশান্ত বণিক, আসানসোল
গত বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের (Asansol Industrial Area) চারটি ব্লক সালানপুর, বারাবনি, রানিগঞ্জ ও জামুড়িয়ার তীব্র জল সঙ্কটকে মূল ইস্যু করেছিল বিরোধীরা। জয়ের পরে শাসকদলের পক্ষ থেকে সঙ্কট মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। চারটি ব্লকের জন্য পৃথক একটি জল প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করে কাজও শুরু করেছিল সরকার। কিন্তু ২০২৫–এ প্রকল্পের কাজ শেষ করে প্রত্যেক বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা আজও চালু হয়নি। ফলে আবার সেই বিষয়কেই প্রচারের মূল হাতিয়ার করতে চলেছে বিরোধী শিবির।
কেন্দ্রের জলজীবন মিশন (Jaljivan Mission) প্রকল্পের অধীনে কুলটির কল্যাণেশ্বরীতে (Kalyaneshwari) দ্বিতীয় জল প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু হয় ২০২৩–এর ২২ অগস্ট। খরচ ধরা হয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। ঠিক হয়, মাইথন হাই ডাইক অঞ্চলে বরাকর নদে গভীর কুয়ো খুঁড়ে প্রত্যেক দিন প্রায় ১০ কোটি লিটার জল তুলে কল্যাণেশ্বরী পরিশোধনাগারে আনা হবে। শোধনের পরে জল পৌঁছে যাবে ব্লকের প্রতিটি গ্রামে। কল্যাণেশ্বরীতে দৈনিক ৯৮ মিলিয়ন লিটার জল পরিশোধনাগার–সহ ২১টি উচ্চ জলাধার, আটটি বুস্টিং স্টেশন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। চারটি ব্লকে পরিশোধিত জল পৌঁছে দিতে ১৩৩ কিলোমিটার রানিং পাইপ লাইন বসানোর পরিকল্পনা হয়।
প্রকল্প রিপোর্টে বলা হয়, চারটি ব্লকে ৭৮ হাজার পরিবারকে মাথাপিছু ৫৫ লিটার করে জল দেওয়া হবে। সালানপুরে ২৮ হাজার, বারাবনিতে ৩০, জামুড়িয়ায় ১৯ ও রানিগঞ্জে ২৩ হাজার পরিবারের ঘরে জলের সংযোগ দেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫–এ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত ৭০ শতাংশ পরিবারে জলের সংযোগ দেওয়া যায়নি। বারাবনি পুঁচরার বাসিন্দা হরিনারায়ণ মণ্ডল বলছিলেন, ‘কল পেয়েছি, জল পাইনি।’ জামুড়িয়ার বাসিন্দা নীলমাধব বাউড়ির মন্তব্য, ‘শুনেছি বাড়িতে কল বসবে। কিন্তু কবে, তা জানি না।’ জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সূত্রের খবর, সালানপুরে আট হাজার, বারাবনিতে দু’হাজার, জামুড়িয়ায় ১১ হাজার এবং রানিগঞ্জে চার হাজার পরিবারে জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ এখনও বাকি। কবে এই কাজ শেষ হবে, তা জানাতে পারেননি সরকারি আধিকারিকেরা।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রের তরফে প্রকল্প রূপায়ণের টাকা পাঠানো বন্ধ হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ঠিকা সংস্থাগুলির কয়েকশো কোটি টাকা বকেয়া থাকায় তারা কাজ বন্ধ করেছে। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারও মুখ ফিরিয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রূপম ঘোষের বক্তব্য, ‘অর্থের অভাবে কাজ থমকে গিয়েছে। এখনও ৩০ শতাংশ প্রকল্প রূপায়ণের কাজ বাকি রয়েছে।’ কবে কাজ ফের শুরু হবে, তা তিনিও জানেন না। মহকুমাশাসক বিশ্বজিৎ ভট্টচার্য জানিয়েছেন, অর্থ সঙ্কটেই কাজ থমকেছে। শিল্পাঞ্চলে গ্রীষ্মে কমবেশি ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। ফলে জলের সঙ্কট এ বারও কাটার তেমন সম্ভাবনা নেই।